Tuesday 10 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি নেতার চোখ জখম, খবর শুনে মায়ের মৃত্যু

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৪৯

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদ

বগুড়া: বগুড়ার নন্দীগ্রামে ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের চোখ গুরুতর জখম হয়েছে। এ ঘটনার খবর শুনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা মাজেদা বেগম।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ৪ নম্বর থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নে পারশুন গ্রামে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সোমবার রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের নেতা-কর্মীরা। পরে তাদের কাছ থেকে বেশকিছু টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক দুজনকে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও জানা যায়, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলা করা হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। একপর্যায়ে আটকে রাখা দাঁড়িপাল্লার কর্মী বেলাল ও ফারুককে উদ্ধার করে নিয়ে যান তাদের সমর্থকেরা।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের বগুড়া প্রেসক্লাবে পালটাপালটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি ও জামায়াত।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে কলেজ ছাত্র সিয়াম আকন্দ অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা মধ্যরাতে আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় বাবা-মাসহ বাড়ির লোকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা আমার বাবার চোখে আঘাত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ও বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র হাতে দাঁড়িপাল্লার কয়েকশো সমর্থক নিয়ে বিএনপি নেতা মাসুদ রানাসহ ধানের শীষের কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালান। তারা বসতবাড়ি ভাঙচুর করে টাকাসহ আটক কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি বলেন, থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের মা মাজেদা বেগম যখন শুনেছে সংঘর্ষের ঘটনায় তার সন্তান একটি চোখ হারিয়েছে, তখন তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। জামায়াতের হামলায় মাজেদা বেগমও আহত হয়েছিলেন।

অপর দিকে একই দিন বিকেল ৪টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা হয়নি। আমাদের কর্মী জুলাই যোদ্ধা গালিব নির্বাচনি কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হন। পরে তাকে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, একই রাতে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার নেতৃত্বে পারশুন গ্রাম থেকে তাদের নেতা ফারুক ও বেলালকে মারধর করে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করার চেষ্টা করা হলেও সেটি হয়নি। যারা হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা রয়েছে। মিথ্যা অভিযোগে আমাদের কর্মীদেরকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, এটি বিএনপির সাজানো ঘটনা। জামায়াত টাকা দিয়ে কোনো ভোট কেনে না, এটা গুজব মাত্র। এটা আর জনগণ বিশ্বাস করে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ সদর আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলসহ জামায়াতের অন্যান্য নেতারা।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর