যশোর: যশোর-৩ (সদর) আসনের যশোর পৌরসভার রেলরোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সিল চুরি ও ভোটকেন্দ্র দীর্ঘক্ষণ ব্যালটশূন্য থাকার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটেছে। সিল নিখোঁজ এবং ভোট কক্ষে ব্যালট না থাকাতে ভোটাররা ভোট না দিয়ে চলে যায়। এতে কেন্দ্রের বাইরে থাকা প্রার্থীর কর্মী সমর্থকেরা বিক্ষোভ করলে কেন্দ্রে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রার্থীদের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দুপুর ১২টার দিকে রেলরোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একটি কক্ষে ভোট গ্রহণকালে চুরির ঘটনা ঘটে। সিল চুরির পর কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই কেন্দ্রটির সব কক্ষই ব্যালটশূন্য হয়ে যায়। ব্যালট ও সিল না থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক ভোটাররা যখন ভোট না দিয়ে চলে যায়; তখন কেন্দ্রের বাইরে থাকা বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা বিক্ষোভ হট্টগোল শুরু করেন। পরে কেন্দ্রে সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এক ঘণ্টা পর ভোটগ্রহণ শুরু হলেও হারানো সিল এখনও পাওয়া যায়নি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকার খবর শুনে কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকাল থেকেই কেন্দ্রটিতে খুব ধীর গতিতে ভোটগ্রহণ চলছে। বারবার প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করলেও; পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়নি। এরপর সিল চুরি হয়। পরে কেন্দ্রটির ব্যালট পেপারই শেষ হয়। তখন ভোটাররা ভোট দিতে না পেরে হট্টগোল শুরু করে। এখন আবারও ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আমাদের অভিযোগ রয়েছে।’
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ওবায়দুর রহমান বলেন, সকালে নারী বুথ থেকে একটি সিল হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। সিলের অভাবে কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণের গতি ধীর ছিল। তবে বিকল্প সিল সংগ্রহের পর বর্তমানে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক গতিতে চলছে। ব্যালট শেষ হওয়ার পরে নিচ থেকে আনতে যেয়ে ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করতে যেয়ে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, যশোর-৩ (সদর) আসনে ছয় জন প্রতিন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০। মোট কেন্দ্র ১৯০টি।