রাজবাড়ী: রাজবাড়ী ২টি সংসদীয় আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
নারী-পুরুষ, তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। এখনো পর্যন্ত কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, রাজবাড়ী-১ আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. মো. নূরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু (লাঙ্গল) ও জাকের পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস (গোলাপ ফুল)।
এছাড়াও রাজবাড়ী-২ আসনে ৯জন প্রার্থীর মধ্যে ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুন-অর রশিদ হারুন(ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরুল হক সাবু (কলস), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শফিউল আজম খান (লাঙ্গল), ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামিল হিজাযী (শাপলা কলি), গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জাহিদ শেখ(ট্রাক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক (হাত পাখা), সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মালেক মন্ডল (ছড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল মোল্লা (ফুটবল)।
এদিকে ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী কাজী মিনহাজুল আলম (দেওয়াল ঘড়ি)।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুটি আসনের মোট ভোটার ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৯০৮। এর মধ্যে রাজবাড়ী-১ আসনের ভোটার ৪ লাখ ৩০ হাজার ২১৫ জন এবং রাজবাড়ী-২ আসনের ভোটার ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ জন।
রাজবাড়ী-১ সংসদীয় আসন রাজবাড়ী সদর উপজেলা ও গোয়ালন্দ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই দুই উপজেলায় রয়েছে ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ২১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৪৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৮ জন।
এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৬টি। রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫টি ও গোয়ালন্দ উপজেলা ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪১টি। এই আসনে মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ৯১২টি। এর মধ্যে স্থায়ী ৯০৪টি ও অস্থায়ী ৮টি। রাজবাড়ী সদরে ভোট কক্ষের সংখ্যা ৬৯৫টি ও গোয়ালন্দ উপজেলা ভোট কক্ষের সংখ্যা ২১৭টি।
অপরদিকে, রাজবাড়ী-২ আসন তিনটি উপজেলা, ২৪টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ আসনের মধ্যে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ জন। এর মধ্যে পাংশা উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৩ জন, বালিয়াকান্দি উপজেলায় ১ লাখ ৯০ হাজার ৩১৯ জন এবং কালুখালী উপজেলায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩১ জন। এ আসনে মোট পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন।
এ আসনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৮টি। এর মধ্যে বালিয়াকান্দি উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭০টি, কালুখালী উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫১টি ও পাংশা উপজেলায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৭টি। এ আসনে মোট ভোট কক্ষের সংখ্যা ১২০৩টি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলাতে মোট ৪ হাজার ৬০২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে ৩ জন অস্ত্রধারী এবং বাকিরা লাঠিসজ্জিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১ জন সেকশন কমান্ডার ও ১ জন সহকারী সেকশন কমান্ডার থাকবেন। প্রিজাইডিং অফিসারের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য পৃথকভাবে ১ জন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।
আরও জানা গেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মাঠে থাকছেন ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৫ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন রয়েছে বিজিবির ১২৫ সদস্য, ব্যাটালিয়ন আনসারের ৯০ জন, র্যাবের ৩০ জন, পুলিশের ১ হাজার ৪৩ জন এবং সেনাবাহিনীর ৫৮৯ সদস্য থাকবে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠ করতে সব ধরনের ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ভোট কেন্দ্র মেরামত, পর্যাপ্ত লাইটিং এর ব্যাবস্থা, বাউন্ডারি বা কাটাতার স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র্যাব, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। ভোটগ্রহণ কালে কেন্দ্রে কেউ কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।