রংপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের মধ্যে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। ষাটোর্ধ্ব নুরজাহান বেগম ভোট দিতে গিয়ে শোনেন, তার ভোট আগেই হয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১২) দুপুর ২টার দিকে তেয়ানি মনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।
এমন অভিযোগ অন্য কয়েকজন ভোটারেরও। স্থানীয়রা বলছেন, সকাল থেকে বিচ্ছিন্নভাবে জাল ভোটের ঘটনা ঘটছে। প্রিসাইডিং অফিসার বলেন, পোলিং এজেন্টদের ভুলের কারণে এমন হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। এই ঘটনা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
নুরজাহান বেগম কেন্দ্রে এসে বুথে ঢোকার পর পোলিং অফিসার তাকে জানান, তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। বহু নির্বাচনের সাক্ষী এই নারী ভোটার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এত বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছি, কখনো সমস্যা হয়নি। এবার বলে আমার ভোট অন্য কেউ দিয়ে দিয়েছে। আমি তো নিজেই দিতে এসেছিলাম।’
স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে দেখছি, কিছু ভোটার আসার আগেই তাদের ভোট হয়ে গেছে বলে জানানো হচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক।’
আরেক ভোটার রহিমা খাতুন বলেন, ‘ভোট দিতে এসে যদি শুনি ভোট হয়ে গেছে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? এটা তো আমাদের অধিকার।’
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মনছুর হোসেন বলেন, ‘পোলিং এজেন্টদের কারণে এমন হয়েছে। তারা শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করছি যাতে আর না হয়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।’
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার পর কেন্দ্রে কিছুসময় উত্তেজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে সচেতন ভোটাররা প্রশ্ন তুলছেন-প্রকৃত ভোটার এসে যদি জানতে পারেন, তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে, তাহলে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় দাঁড়ায়?
পীরগাছা উপজেলায় মোট ১৬৩টি ভোটকেন্দ্র। মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। এবারের সংসদ নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।