রংপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন রংপুরের অনেক নাগরিক জীবনে প্রথমবার ভোট দিয়েছেন। ভোট দিয়ে আঙ্গুলে লেগে থাকা অমোচনীয় কালির চিহ্ন নিয়ে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোস্ট করছেন, মাইডে স্টোরি দিচ্ছেন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। অনেকের কাছে এই অভিজ্ঞতা অন্যরকম স্বাদের। শীতের সকাল উপেক্ষা করে ভোর সাতটায় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে অনেকে বলছেন, ‘এবারের ভোটটা জীবনের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত।’
রংপুর নগরির মাহিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান বলেন, ‘ভোটার হওয়ার পর একবার সুযোগ হয়েছিল, কিন্তু যেতে পারিনি। এবার আগ্রহটা বেশি ছিল। সিরিয়ালে সমস্যা হবে ভেবে সাতটায় চলে এসেছি। দুটো ভোট দিয়েছি—সংসদ ও গণভোট। যদিও মনে হয়েছে খুব যোগ্য প্রার্থী নেই, তবু যাকে ভালো লেগেছে তাকেই দিয়েছি। এটা আমার জীবনে অন্যরকম অভিজ্ঞতা।’
নগরীর আলমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিনহাজ আবেদিন বলেন, ‘বিগত সময়গুলোতে ভোট দেওয়া নিয়ে মানুষের শঙ্কা ছিল। এবার শেষ মনে হয়েছে। তাই সাত সকালে এসে জীবনের প্রথম ভোট দিলাম। আশা করি এবারের ভোটের মাধ্যমে পুরনো বন্দোবস্তের বদলে নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশ হবে। একসঙ্গে অর্থনৈতিক মুক্তিও মিলবে।’
রংপুর-৩ আসনের এই কেন্দ্রে সকালের দিকে ভোটার কম ছিল, কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার বাড়তে শুরু করেছে। মহিলা ও পুরুষ বুথে সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষণ করছেন।
রংপুর রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ৩৩টি আসনে মোট ৮০ হাজার ১২১ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রংপুর রেঞ্জের আওতায় ৩২টি আসনে ৪ হাজার ৫৪৬টি কেন্দ্রে ১২ হাজার ৩৩২ জন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ২ হাজার ৩৫৬টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৩৩৫ জন, সাধারণ ২ হাজার ১৯০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৮২ জন, ৪৬৪টি মোবাইল টিমে ২ হাজার ৯৭ জন, ১০৫টি স্ট্রাইকিং টিমে ৬৭৫ জন, অন্যান্য ডিউটিতে ১ হাজার ৮৬৩ জন।
সেনাবাহিনী ৬ হাজার ৪১৩ জন, বিজিবি ৩ হাজার ৪৬২ জন, ব্যাটালিয়ন আনসার ৭৮১ জন এবং অঙ্গীভূত আনসার ৫৫ হাজার ২৩৮ জন মোতায়েন রয়েছে। রংপুর মহানগরীতে (রংপুর-৩ আসন) ২০৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে মোট ১ হাজার ৪০৮ জন পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী বলেন, ‘পুলিশ পূর্ণ পেশাদারিত্ব নিয়ে মাঠে আছে। ভোটকে উৎসবমুখর ও ঈদের আনন্দের মতো নিশ্চিত করতে যা দরকার সব করা হয়েছে।’
রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিটি ব্রাঞ্চ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতিতে দায়িত্ব পালন করছেন সকলেই। যারা ব্যাঘাত ঘটাতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। বডি ক্যামেরা ও সিসিটিভি দিয়ে মাঠ থেকে কমিশন পর্যন্ত মনিটরিং হচ্ছে।’
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিতে নিশ্চিত যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎসবমুখর পরিবেশে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
উল্লেখ্য, রংপুর বিভাগে মোট ভোটার ১ কোটি ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯৫ জন—পুরুষ ৭৩ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ জন, নারী ৭৮ লাখ ১০ হাজার ১৯ জন। ৩৩টি আসনে ২৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ৮ জন নারী। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।