সিলেট: নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে সিলেটের ৬টি আসনে কড়া নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। কেন্দ্রগুলোতে এখন গণনা কার্যক্রম চলছে।
দিনভর জেলার কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত টহল এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি জোরদার ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ ভোট পড়ার তথ্য জানান। তিনি বলেন, দুপুর পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং কেউ কোনো অভিযোগও করেননি। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ ভোট পড়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি পায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
তবে নগরীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া অনেক স্থানে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। কিছু কেন্দ্র ফাঁকা দেখা যায়। অন্যদিকে চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ২ জন এবং রনিখাই হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ১ জনকে আটক করে পুলিশ।
কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, জাল ভোট দেওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ভোটের দিন বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরাও নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দেন এবং সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সিলেটে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৬১০ জন এবং কেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ১৬টি। ৬টি আসনে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্র থেকে ফলাফল সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হবে।