বগুড়া: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ সদর আসনে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বগুড়া জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তারেক রহমান ২ লাখ ১৬হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আবিদুর রহমান সোহেল ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট পেয়েছেন।
এ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি তারা প্রতীক নিয়ে ২৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ৫০৮, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের দিলরুবা নূরী মই প্রতীক নিয়ে ৭৯৫ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭জন। ১৫০টি ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয় ।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২৯ জানুয়ারি পিতৃভূমি বগুড়ায় আসেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর বগুড়ায় এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক সফর। তার এই আগমনকে ঘিরে বগুড়ায় উৎসবের আমেজ পড়ে যায়। জেলাজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা ও সাজ সাজ রব দেখা যায় সেই সময়। এরপর ভোটের মাঠে ভিন্নরুপ নেয়। বদলে যায় নির্বাচনী মাঠ। তার সফরই ছিল বিএনপির বিজয়ের বার্তা।
জানা গেছে, বগুড়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে গত ১৮ বছর দৃশ্যত কোন উন্নয়ন হয়নি। শিক্ষা জীবন শেষ করেও চাকুরী পায়নি অনেকেই। থেকেছে বেকার। অন্য জেলার বাসিন্দারা চাকুরী পেলেও বগুড়ার বাসিন্দারা চাকুরী পাননি। করা হয়নি দৃশ্যমুলক কোন উন্নয়ন। বগুড়া নাম শুনেই বাদ পড়েছে অনেক কিছু। এবার বঞ্চিত বগুড়ার উন্নয়নে হাল ধরতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন জেলাবাসী।
রাজনীতিতে তারেক রহমানের অভিষেক হয় বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি বিএনপির প্রতিষ্টাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়ার নিভূত পল্লী গাবতলী উপজেলা থেকে। ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার প্রার্থী হয়েছিলেন মা বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন মরহুম বেগম খালেদা জিয়া। ওই নির্বাচনী প্রচারই ছিল তারেক রহমানের দলীয় কার্যক্রম। তখন গাবতলী থানা বিএনপির একজন সদস্য থাকলেও পরে তাকে জেলা কমিটির সদস্য করা হয়। দলে গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচন পদ্ধতি ফিরিয়ে এনে তারেক রহমান বগুড়াকে সাংগঠনিক মডেল জেলায় রুপান্তর করেন। দলকে গুছিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্যও কাজ শুরু করেন। ২০০৭ সালে এসে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ হয়ে উঠায় নানা ঘটনার জন্ম হয়। এরপর তিনি দীর্ঘসময় নির্বাসন জীবন কাটান।