Saturday 14 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যশোরে ২৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৩২

যশোর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৭ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী সবকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা জামানাত হারিয়েছেন।

নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।

জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির (লাঙল) ৫জন, ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা) ৬জন, আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির (ঈগল) ২জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (মই) ১ জন, খেলাফত মজলিশের (দেয়ালঘড়ি) ১ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ-এর (টেলিভিশন) ১ জন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার (চশমা) ১ জন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (কাস্তে) ১ জন, বাংলাদেশ মাইনরিটির জনতা পার্টির-বিএমজেপি (রকেট) ১ জন, স্বতন্ত্র ৫ জনের মধ্যে ৪জন (মোটরসাইকেল, ফুটবল, ঘোড়া, কলস)।

বিজ্ঞাপন

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ এবং ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে ৮ ভাগের ১ ভাগ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে জানা গেছে, যশোর-১ (শার্শা) আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ১৫ হাজার ৩১। প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৭০ দশমিক ৪৮ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ২৬ হাজার ৯৭৫ ভোট। কিন্তু জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল মাত্র ১ হাজার ৩৯৮ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমান ১ হাজার ৭৬৮ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনে প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৮৯১। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭০ দশমিক ৫৩ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৪১ হাজার ৮৬১ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী বক্তিয়ার রহমান ৫ হাজার ৭৮১ ভোট, আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির (ঈগল) রিপন মাহমুদ ৪১৬, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (মই) ইমরান খান ৪৭২, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ-এর শামছুল হক (টেলিভিশন) ২৩৩, স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া) ১৮৮, মেহেদী হাসান (ফুটবল) ৩৮৯ পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

যশোর-৩ (সদর) আসনে ভোট দিয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ৫৩ ভোটার। যা মোট ভোটারের শতকরা ৬৭ দশমিক ৭৬ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৫১ হাজার ৬ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ১৩ হাজার ৩৩২ ভোট, জাতীয় পার্টির খবির গাজী ৩ হাজার ৪০৪, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার (চশমা) নিজামদ্দিন অমিত এক হাজার ৭৭২, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (কাস্তে) রাশেদ খান ৭৫৩ পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

যশোর -৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর) এ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৮৩। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭২ দশমিক ২৭ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৪০ হাজার ৬৬০ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজিদ হোসাইন ১১ হাজার ৮৩৮ ভোট, খেলাফত মজলিসের আশেক এলাহী ৩০১, গণঅধিকার পরিষদের আবুল কালাম গাজী ২৫৭, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক ১ হাজার ৭৫১, বাংলাদেশ মাইনরিটির জনতা পার্টি- বিএমজেপি- এর সুকৃতি কুমার মন্ডল ১ হাজার ৫১০ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) এ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৮১ হাজার ৫৪৪। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭৬ দশমিক ৫০ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৩৫ হাজার ১৯৩ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়নাল আবেদীন ৪ হাজার ৪০০ ভোট, জাতীয় পার্টির এমএ হালিম ২ হাজার ২৪৫, স্বতন্ত্র কামরুজ্জামান (ফুটবল) দুই হাজার ১০৩ পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

যশোর-৬ (কেশবপুর) এ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩২২। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭৭ দশমিক ৯০ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ২১ হাজার ৯১৫ ভোট। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম ১ হাজার ২৮৫ ভোট, জাতীয় পার্টির জিএম হাসান ২ হাজার ৯১০, আমার বাংলাদেশ এবি পার্টির (ঈগল) মাহমুদ হাসান ৬৭২ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

যশোর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি পাভেল চৌধুরি বলেন, ‘যশোরে এক তৃতীয়ংশ অপরিচিত। বড় দুটি দল ছাড়া কেউ সব কেন্দ্রে পোলিং অফিসার দিতে পারেনি। তারা প্রার্থী হয়েছিলেন নামকাওয়াস্তে। এসব প্রার্থীদের সাধারণ দুটি উদ্দেশ্য থাকে; একটি অসৎ; অন্যটি পরিচিত হওয়া। আবেগে প্ররোচিত হয়েও অনেকেই প্রার্থী হয়।’

যশোরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম রাকিব জানান, ‘নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগের চেয়ে কম ভোট পেলে প্রার্থীদের জামানত বাতিল হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছিল। আট ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম ভোট পাওয়ায় ২৪ প্রার্থীর জামানতের ১২ লাখের অধিক টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।’

বিজ্ঞাপন

যশোরে ২৪ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৩২

জামায়াত আমিরকে প্রধান উপদেষ্টার চিঠি
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:০১

আরো

সম্পর্কিত খবর