নীলফামারী: নীলফামারী-১ আসনের জামায়াত সমর্থিত নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। আমরা চাঁদাবাজি করি না এবং কাউকে করতেও দেব না। আমরা বিরোধী দলে আছি বলে অন্যায় দেখেও চুপ করে থাকব না। অন্যায়, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নীলফামারীর ডোমার পৌর শহরের আইডিয়াল স্কুলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এক নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, শনিবার চিলাহাটিতে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যারা পরাজিত হয়েছেন, তাদের উচিত জনগণের জন্য কাজ করা, যাতে ভবিষ্যতে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হওয়া যায়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রশাসন যদি যথাযথ দায়িত্ব পালন করত, তাহলে হয়তো এসব হামলার ঘটনা ঘটত না। তিনি পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের পুলিশের মতো আচরণ করলে চলবে না। পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশ নিরপেক্ষ থাকলে যে কোনো অন্যায় প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সরকারি দলের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দল ও বিরোধী দল উভয়ই গণতন্ত্রের প্রতীক। নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার কারণে বিভিন্নভাবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী প্রকাশ্যে ধৈর্য ধরার আহবান জানালেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
হামলা ও হুমকি বন্ধের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ গড়তে হলে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধ হলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল হাকিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।