গাইবান্ধা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনে ২২ হাজার ৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি এ কৃতজ্ঞতা জানান।
ফেসবুক পোস্টে ডা. সাদিক লেখেন, ‘প্রিয় সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ীবাসী, আসসালামু আলাইকুম। সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ১,৩৯,৮৬৪ (এক লক্ষ উনচল্লিশ হাজার আটশত চৌষট্টি) ভোট পেয়ে আমি নির্বাচিত হতে পারিনি। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, দলের নেতা-কর্মী, সাধারণ মানুষ, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সহপাঠী ও চিকিৎসক সমাজ—যারা নিঃস্বার্থ ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন, সবার প্রতি আমি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। জনগণের রায়ের প্রতি আমি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমার নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে এলাকার অবহেলিত ও অনুন্নত জনগণের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম—সেই অপূর্ণতা রয়ে গেল।’
এ বিষয়ে ডা. সাদিক বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। তিনি জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে মেনে নিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ীবাসীর পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন ও কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন শেষ হলেও জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও দায়বদ্ধতা শেষ হয়নি। মানুষের যে আস্থা ও ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন, তা তার রাজনৈতিক পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।
এদিকে, পরাজয়ের পরও তার এই রাজনৈতিক সৌজন্য ও গণতান্ত্রিক বার্তা স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতে, ডা. সাদিক একজন সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী নেতা। সাদুল্লাপুর উপজেলার কৃতি সন্তান ও পেশায় চিকিৎসক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দুই উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চিকিৎসা সেবা ও সহযোগিতায় তার ভূমিকা রয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনের চূড়ান্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী ডা. সাদিক পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৪ ভোট। তাকে পরাজিত করে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ফলে ২২ হাজার ৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন লেবু।