Monday 16 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রমজানের আগেই রাজবাড়ীতে লেবুর দামে আগুন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৮

রাজবাড়ীর শহরের পৌর কাঁচা বাজার

রাজবাড়ী: আর কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে রমজান। রমজান মাসে ধনী-গরিব নির্বিশেষে ইফতারে লেবুর শরবত অন্যতম প্রধান পানীয়। এ সময়ে অন্য অনেক পণ্যের মতো চাহিদা বাড়ে লেবুর। এরইমধ্যে এক হালি লেবু কিনতে হচ্ছে ৬০ টাকায়। তবে রমজান শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বেড়েছে লেবুর দাম, যা সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের পৌর কাঁচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে লেবু প্রতি হালি ৬০ টাকা ও ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাকা লেবু ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি।

বাড়িতে অনুষ্ঠান, সালাত তৈরির জন্য লেবু কিনতে এসেছিলেন শিমুল। তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে সালাত সবার প্রিয়। শশা, গাজর, টমেটোর পাশাপাশি ভেবেছিলাম লেবু রাখব। কিন্তু ৩টি দোকান ঘুরলাম দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ডাবল। ছোট লেবু তবুও ৬০ টাকা হালি।’

বিজ্ঞাপন

আরেক ক্রেতা রহিম বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে লেবু এখন বিলাসী পণ্যের মতো হয়ে গেছে। এবার লেবুর দাম যেভাবে দ্রুত বেড়েছে, তা সাধারণ মানুষের বাজেটে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক নজরদারি দুটোই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

শহরের কাঁচা বাজারে লেবু বিক্রেতা গোপাল ঘোষ বলেন, ‘বাজারে লেবুর আমদানি একদমই নেই। এ জন্য আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। যেসব গাছে সারা বছর কিছুটা লেবু পাওয়া যায়, সেগুলোর ফলই এখন বাজারে আসছে। সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।’

বিক্রেতা বিনয় সাহা বলেন, ‘লেবু এখন খুবই কম পাওয়া যাচ্ছে। এখন লেবুর সিজন না। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো বারোমাসি লেবু। এগুলো অতিরিক্ত দামে কিনতে হয় আমাদের। নতুন মৌসুমের লেবু বাজারে আসা শুরু করলে দাম কিছুটা কমতে পারে।’

বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুরের পদমদি গ্রামে আড়াই পাখি জমিতে ৮ বছর ধরে লেবু চাষ করেন আবু বক্কার। তিনি বলেন, ‘বছরের অধিকাংশ সময় লেবুর দাম কম থাকে। যখন কম থাকে তখন আকার ভেদে ১০০ পিছ লেবু বিক্রি করতে হয় ৬০ টাকা থেকে ১২০ টাকায়। এখন লেবর সিজন না, গাছে ফলনও অনেক কম। এখন আমরা আকার ভেদে ১০০ পিছ লেবু ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করছি। লেবু চাষে খরচ অনেক। বিভিন্ন প্রকারের সার দিতে হয়। ইউরিয়া, ডিআইবি, টিএসপি, এমওপি, দস্তা, সালফার সার দিতে হয়। এ ছাড়া পানি দিতে হয়। পোকামাকড়ের হাত থেকে লেবু রক্ষার জন্য মাঝে মাঝে স্প্রে করতে হয়।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অ.দা.) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বাজারে লেবুর আমদানি এখন অনেক কম। এখন লেবু সিজন না, এ জন্য দামটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন স্বাভাবিক থাকে এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আর্থিক জরিমানাসহ অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

খুলনায় ৯ অবৈধ কয়লার চুল্লি ধ্বংস
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৪

বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৭

আরো

সম্পর্কিত খবর