রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১২০তম (জরুরি) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমানকে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই আদেশ ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। একই সভায় রেজিস্ট্রার (চুক্তিভিত্তিক) ড. মো. হারুন-অর রশিদের নিয়োগ বাতিল করে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে সংস্থাপন শাখা-১-এর উপ-রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলাম এ সংক্রান্ত আদেশে সই করেছেন। নতুন রেজিস্ট্রার ড. ফেরদৌস রহমান বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং বহিরঙ্গন পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন।
এই পরিবর্তনের পেছনে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা কাজ করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রেজিস্ট্রার ড. হারুন-অর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। শাখা ছাত্রদল তাকে ‘জামায়াতের নেতা’, ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত’ ও ‘গুপ্ত গোষ্ঠীর সহযোগী’ বলে অভিহিত করে চাকরিচ্যুতির দাবি জানিয়েছিল। অন্যদিকে, ছাত্রশিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতি, ভর্তি পরীক্ষার অর্থ ভাগাভাগি এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিলম্বের অভিযোগ তুলেছিল। এর মধ্যে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তও চলমান ছিল।
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে উপাচার্যের সঙ্গে এক বৈঠকের পর রেজিস্ট্রারের পরিবহন সুবিধা বাতিল করা হয় এবং তার অফিস থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। রেজিস্ট্রার নিজে অভিযোগ করেন যে, তাঁকে অফিস ছাড়তে বলা হয় এবং গাড়ি ব্যবহারে নিষেধ করা হয়। তিনি এটিকে রাজনৈতিক চাপের ফল বলে দাবি করেন।
ড. ফেরদৌস রহমানের নিয়োগকে অনেকে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি ইতোমধ্যে প্রক্টর হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, রেজিস্ট্রার পদে এই পরিবর্তন দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অভিযোগের পরিণতি। সাম্প্রতিক সময়ে দুদকের অভিযান, যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকদের লঘু শাস্তি এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিলম্ব নিয়ে ক্যাম্পাসে অসন্তোষ বেড়েছে। এই পরিবর্তন ক্যাম্পাসে শান্তি ফিরিয়ে আনবে নাকি নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করবে, তা এখন দেখার বিষয়।