Saturday 28 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

খুলনায় ডাক বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৯

খুলনা: খুলনায় ডাক বিভাগের ‘মেইল ক্যারিয়ার’ পদে নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এজন্য দৌলতপুর মুহসিন মহিলা কলেজের এক শিক্ষককে আটকের পর শোকজের শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম প্রভাষক মো. হাফিজুর রহমান।

প্রত্যক্ষদর্শী পরীক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার হল নং ৫০৮-এ প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন মো. হাফিজুর রহমান। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ১৫ মিনিট আগে তিনি প্রশ্নপত্র নিয়ে হলের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আনুমানিক ১০ মিনিট আগে তিনি উক্ত ৫০৮ কক্ষের হল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিকট থেকে একটি প্রশ্ন নিয়ে হল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে পরীক্ষার্থীরা হল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ দায়িত্বরত শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। পরে প্রায় ১০ মিনিট পর অভিযুক্ত শিক্ষককে সিঁড়ির কাছে প্রশ্নপত্রসহ ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন পরীক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

আরও জানা যায়, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই সাধারণ পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। একইসঙ্গে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানুর রশিদ অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নিমিত্তে মো. হাফিজুর রহমানকে আটক করা হয়।

তবে পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন বলেন, খুলনা ডাক বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্র নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের ঘটনায় তাৎক্ষণিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য পিএমজি কার্যালয়ে এক ধরনের মোবাইল কোর্টের মতো বৈঠক বসে। সেখানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক মো. হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। ওই শুনানিতে এডিসি ও দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কক্ষের ইনভিজিলেটরসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলা হয় এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হয়।

শুনানি শেষে কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এটি আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রতীয়মান হয়নি। ফলে আটক শিক্ষককে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি রেকর্ডভুক্ত রাখতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও তিনি জানান।

তবে এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নওরোজি কবির এর মোবাইলে রিং দিলেও সেটি রিসিভ হয়নি।

পরীক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরও অধ্যক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। বরং তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষে সাফাই গেয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ঘটনাটির পেছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব নওরজি কবিরের ভূমিকা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানান।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর