Sunday 01 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন
৭ পদে জয়ী আওয়ামীপন্থী, জামায়াত ৬টি ও সভাপতিসহ ৪ পদে বিএনপি বিজয়ী

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ মার্চ ২০২৬ ১৭:২০ | আপডেট: ১ মার্চ ২০২৬ ১৭:২২

বিজয়ীদের ফুলের মালা পরিয়ে দেন সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার: কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভিন্ন ভিন্ন পদে জয় পেয়েছে তিন রাজনৈতিক ধারার প্যানেল। সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদ গেছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের ঝুলিতে। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল সর্বাধিক ৭টি পদে জয়লাভ করেছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন এবং চকরিয়া উপজেলা চৌকি আইনজীবী সমিতি ভবনে স্থাপিত দুটি কেন্দ্রে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভোট গণনা শেষে মধ্যরাতে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার আইনজীবী মোহাং আহমদ কবির।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সভাপতি পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত মোহাম্মদ আবদুল মন্নান-ছলিমুল মোস্তফা প্যানেলের অ্যাডভোকেট আবদুল মন্নান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমির হোসাইন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বদিউল আলম সিকদার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেলের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছলিমুল মোস্তফা তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্যানেল ১৭টি পদের বিপরীতে ১৬ জন প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মোট ৪টি পদে জয় পেয়েছে। বিজয়ীরা হলেন- সহসভাপতি পদে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-২, পাঠাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান এবং নির্বাহী সদস্য পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল করিম জয়।

জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আমির হোসাইন–অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আখতার উদ্দিন হেলালী প্যানেল ১৭টি পদের বিপরীতে ১৭ জন প্রার্থী দেয় এবং ৬টি পদে জয়লাভ করে। সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও বিজয়ীরা হলেন- সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল বারী, সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন মাহমুদ তমাল, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক ও অ্যাডভোকেট এ কে এম ও শাহজালাল চৌধুরী এবং নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম জসিম।

অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বদিউল আলম সিকদার–অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল হুদার আওয়ামীপন্থী প্যানেল ১৭টি পদের বিপরীতে ১৪ জন প্রার্থী দিয়ে ৭টি পদে জয়লাভ করে। বিজয়ীরা হলেন- সহসাধারণ সম্পাদক (হিসাব) পদে অ্যাডভোকেট মো. মহিউদ্দিন, আপ্যায়ন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ান আলী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাহিদা খানম কক্সী, সিনিয়র নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট ইকবালুর রশিদ আমিন ও অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন আহমদ এবং নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট পারভীন সুলতানা পিয়া ও অ্যাডভোকেট সেকাব উদ্দিন।

নির্বাচন কমিশন আরও জানায়, সমিতির মোট ৯৪৮ জন ভোটারের মধ্যে ৮৯২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি ভবন কেন্দ্রে ৮০৬ জন এবং চকরিয়া উপজেলা চৌকি আদালত ভবন কেন্দ্রে ৮৬ জন ভোট দেন। দুটি কেন্দ্রে যথাক্রমে ৮৬১ ও ৮৭ জন ভোটার তালিকাভুক্ত ছিলেন। নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে মোট ৪৭ জন আইনজীবী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবারই প্রথম বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত তিনটি পৃথক প্যানেল সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেয়। ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠিত জেলার সর্ববৃহৎ পেশাজীবী সংগঠনটির ইতিহাসে গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার কারণে এবারই প্রথম রোজার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাং আহমদ কবির অ্যাডভোকেট প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এম. রেজাউল করিম অ্যাডভোকেট, সৈয়দ রাশেদ উদ্দিন অ্যাডভোকেট ও মোস্তাক আহমদ-৪ অ্যাডভোকেট। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফরিদ আহমদ অ্যাডভোকেট, নুর আহমদ-২ অ্যাডভোকেট, আবু ছিদ্দিক অ্যাডভোকেট, তাপস রক্ষিত অ্যাডভোকেট, মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ অ্যাডভোকেট, এ. কে. ফিরোজ আহমদ অ্যাডভোকেট ও মোহাং আরিফ উল্লাহ অ্যাডভোকেট। এর মধ্যে মোস্তাক আহমদ-৪ ও নুর আহমদ-২ চকরিয়া কেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নির্বাচনে ১৭টি পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্যানেল ৬টি পদে এবং আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রার্থীরা ২টি পদে জয়লাভ করেছিলেন। এবারের ফলাফলে তিন পক্ষের মধ্যে তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র উঠে এসেছে।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর