রাজবাড়ী: জেলার পাংশা উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এক তরুণীকে ডেকে এনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯ টার দিকে পাংশা থানার সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের সরকারি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাংশা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা গ্রামের মকবুল মণ্ডলের ছেলে আকাশ মণ্ডল ও একই ইউনিয়নের বাজেয়াপ্ত বাগলী গ্রামের মো. আরশেদ মণ্ডলের ছেলে জামাল মণ্ডল। অন্যদিকে ওই ভুক্তভোগী তরুণী ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি গাজীপুর মহানগর এলাকায় বসবাস করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এক যুবকের প্রায় সাত মাস ধরে টিকটকের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে।
ওই যুবকের বন্ধু আকাশ মন্ডল (২৯) তাকে আশ্বাস দেন যে, পাংশায় এলে তার সঙ্গে সাবেক প্রেমিকের বিয়ে সম্পন্ন করে দেওয়া হবে। ওই আশ্বাসে বিশ্বাস করে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি পাংশা মৈশালা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান তরুণী। পরে অভিযুক্ত আকাশ মন্ডলের নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলে করে সরিষা ইউনিয়নের বহলাডাঙ্গা এলাকায় যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা তাকে মাদরাসার উত্তর পাশে অবস্থিত একটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন অপর অভিযুক্ত মো. জামাল মন্ডল (২২)। তরুণী বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে অভিযুক্তরা সকালে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে রাতে ওই কক্ষে থাকতে বাধ্য করেন এবং বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে রাখেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে দুই অভিযুক্ত কক্ষে প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এ ছাড়া, তার কানের স্বর্ণের দুল, ব্যাগে থাকা নগদ অর্থ এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু টাকা নিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’