কক্সবাজার: কক্সবাজার শহরের কলাতলীর এন আলম গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আবু তাহের (৪২) ৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকায় মারা গেছেন।
রোববার (১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আবু তাহের কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
নিহতের প্রতিবেশী আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বাড়ির পাশের এন আলম গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন আবু তাহের। প্রথমে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে স্বজনেরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান। রোববার দুপুরে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। মরদেহ কক্সবাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ শুক্রবার জানিয়েছিলেন, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৬ জনের মধ্যে আবু তাহেরের শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। অন্যদের মধ্যে রহিম ৫০ শতাংশ, সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ এবং মেহেদি ও মোতাহের ২০ শতাংশ করে দগ্ধ হন।
কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন এক দগ্ধ ব্যক্তির মৃত্যুর খবর শুনেছি। মরদেহ কক্সবাজারে পৌঁছালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর আগুন আশপাশের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৩০টি গাড়ি, ১০টি বাড়িসহ বিভিন্ন অবকাঠামো পুড়ে যায়। আগুনে দগ্ধ ও আহত হন ১৫ জন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরদিন জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।