গাইবান্ধা: জেলার সদর উপজেলায় মা-ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে গাছের মগডালে উঠে পড়েছিলেন এক নারী। ভেবেছিলেন আত্মহত্যা করবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। কিন্তু মগডাল থেকে আর নামতে পারছিলেন না তিনি। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে, বাহিনীর সদস্যদের চেষ্টায় দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় ওই নারীকে।
আজ রোববার (১ মার্চ) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
উদ্ধারকৃত ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর নাম মালতি বেগম। সে ওই গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে এবং পেশায় একজন গার্মেন্টস শ্রমিক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর আগে সাত বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তানসহ মালতিকে ফেলে চলে যান তার স্বামী। এর পর থেকে মালতি ঢাকার একটি গার্মেন্টস কোম্পানিতে চাকরি করছিলেন মালতি। রোজার আগে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। বাড়িতে ফিরলে মা ও দুই ভাই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন এমন অভিযোগ করেন তিনি। পরে পারিবারিক অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুপুরে ঝগড়ার একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি গাছে উঠে পড়েন। শুরুতে স্থানীয়রা তাকে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন বলে ধারণা করেন। পরে তার ছোট ভাই ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তাকে নিরাপদে নিচে নামানো হয়।
উদ্ধারের পর ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, ‘মা ও দুই ভাই আমাকে নিয়মিত মারধর করতেন, কটু কথা বলতেন। এসব সহ্য করতে না পেরে রাগের মাথায় গাছে উঠেছিলাম। তারা আমাকে পাগল প্রমাণ করতে ফায়ার সার্ভিস ডেকেছে। আমি সুস্থ আছি, পাগল নই।’
তবে পরিবারের দাবি, মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় তাকে শাসন করা হয়েছিল। পরে আশঙ্কা হয়, তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন—এ কারণেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা রিফাত আল মামুন বলেন, ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ‘নারীটি মানসিক চাপের মধ্যে থাকলেও তিনি পাগল নন। তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’