রংপুর: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী গোলাম রহমান শাওনকে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে বহিরাগতরা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর করেছে।
রোববার (১ মার্চ) রাত আনুমানিক ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আবু সাঈদ চত্বর এলাকা থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। প্রায় চার ঘণ্টা পর ভোরের দিকে তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মানসিক ট্রমায় ভুগছেন বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের বরাতে জানা যায়, শাওনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে তার সাবেক প্রেমিকার স্বজন ও লালবাগ এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে বিবাদ চলছিল। সমঝোতার কথা বলে তাকে রাতে আবু সাঈদ চত্বরে ডেকে আনা হয়। শাওন দুঃখ প্রকাশ করলেও লালবাগে যেতে অনীহা জানান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে কৌশলে শাওন পালিয়ে গেলে তাকে ধাওয়া করে বহিরাগতরা। এরপর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সর্দার পাড়ার একটি ছাত্রাবাসে আশ্রয় নেয় শাওন। তাকে বহিরাগতরা খুঁজে না পেয়ে চলে যায়।
এদিকে ঘটনার পরপরই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা রংপুর মাহিগঞ্জ থানাকে অবহিত করেন। থানা পুলিশ ও সহপাঠীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে একটি মেস থেকে তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সহপাঠী সাকিব সরকার বলেন, ‘আমরা শাওনকে একটি মেস থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। সে এখন মানসিক ট্রমায় রয়েছে। সুস্থ হলে তার কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানা যাবে।’
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহাগ আলী বলেন, ‘আমরা তাকে উদ্ধার করেছি। এখন তার চিকিৎসা চলছে। প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনে যাবেন। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে।