গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে পবনাপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফরিদপুর গ্রাম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে তার স্বামী হানিফ মিয়া (৩৫) পলাতক রয়েছেন।
নিহত আমেনা বেগম ছিলেন হানিফ মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী এবং এক সন্তানের জননী। স্থানীয়দের অভিযোগ, হানিফ একাধিক মামলার আসামি ও এলাকার উশৃঙ্খল প্রকৃতির ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন এবং মাঝে মাঝে গ্রামে এসে আমেনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। গতকাল রোববার (১ মার্চ) দুপুরেও আমেনাকে বেধড়ক মারধর করতে দেখা যায়। এরপর ইফতারের ঠিক আগে হানিফকে বাইসাইকেল চালিয়ে তড়িঘড়ি করে বাড়ি ছাড়তে দেখেন স্থানীয়রা।
পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে বাঁশের আড়ার (টানা) সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনার মরদেহ দেখতে পান । এলাকাবাসীর অভিযোগ হানিফ মিয়া ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে মরদেহটি ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পবনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এর আগেও শালিসের মাধ্যমে তাদের দাম্পত্য সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি এবং পুলিশকে বিষয়টি জানালে তারা আজ সকালে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।’
পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছি। থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’