রংপুর: রংপুর নগরীতে ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে ক্যাবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারসহ গুলি করে হত্যার হুমকির মামলায় এবার রংপুর জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুনকে (৪৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সোমবার (২ মার্চ) মধ্যরাতে নগরীর নুরপুর থেকে গ্রেফতার করে মুরাদ কায়সার মিথুনকে। পরে তাদের রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে রাতে সোমবার (২ মার্চ) রাতে র্যাব-১৩ এর একটি আভিযানিক দল নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিবকে (৪৩) গ্রেফতার করে।

রংপুরে ডিশ ব্যবসায়ীকে ‘হত্যার হুমকি’র সময় উপস্থিত তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুন।
মামলার এজাহারে জানা যায়, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা এলাকায় ক্যাবল ওয়ানের ফিড মালিক হারুন অর রশিদের ব্যবসা দখলের চেষ্টা চলছিল। নতুন সরকার গঠনের পর এ চাপ বেড়ে যায়। ২৩ ফেব্রুয়ারি কামাল কাছনা এলাকার ডিশ লাইন কেটে দেওয়া হয়। এর জেরে ২৮ ফেব্রুয়ারি হারুনের স্ত্রী রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করেন।
রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় গালিবের নির্দেশে, যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু ও তাদের ১৫-২০ জন অনুসারী প্রেস ক্লাবের সামনে ক্যাবল ওয়ান অফিসে হামলা চালায়। তারা ল্যাপটপসহ সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করে, ব্যবস্থাপক রায়হান আহমেদ পরাগকে মারধর করে। মিথুন ব্যবস্থাপককে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ। এ সময় মনু মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপক মাহাদি হাসানকে ফোনে গালিগালাজ করে বলেন, ‘আজকের মধ্যে সমাধান না করলে তোর বাসায় গিয়ে, বেডরুমে ঢুকে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।’ ক্যাবল ওয়ানের জিএম কাফিও হুমকির শিকার হন। ভয়ে কর্মীরা অফিস তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যান, ফলে রংপুরে সিগন্যাল সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
ক্যাবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলা ও হুমকির দৃশ্য স্পষ্ট। ফুটেজ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ঘটনার পর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি গালিব ও মনুকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ব্যক্তির অপরাধে সংগঠন দায়ী হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।’
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ দল অফিস পরিদর্শন করে। মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, ‘সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত জব্দ করা হয়েছে। দুটি মামলায় নিবিড় তদন্ত চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
অভিযুক্ত গালিব গ্রেফতারের আগে দাবি করেছিলেন, ‘২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই লাইন তার নিয়ন্ত্রণে ছিল; হারুন পরে দখল করেছেন। তিনি বলেন, “এটা আমার হক, কোনো অন্যায় হয়নি।’
আর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু নিজের দল যুবদল-বিএনপির কিছু নেতার আক্রোশের শিকার দাবি করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের টাকার কাছে বিক্রি হয়ে কিছু সাংবাদিক ঘটনার ওয়ান সাইড বিষয় প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি কোনোদিনই চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না, কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। ক্যাবল ওয়ান অফিসে যে গিয়েছিলাম সেটা আমার অসৎ উদ্দেশ্য ছিলো না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সেটার আংশিক তবে সম্পূর্ণ ভিডিও কেউ যদি দেখে তাহলে মানুষের ভুল ধারণা ভাঙবে। আমি যে ভাষা ব্যবহার করেছি সেটা উচিৎ হয়নি, উত্তেজিত হয়ে এমনটা করেছি।’
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।