Tuesday 03 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কক্সবাজারে গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ড: দগ্ধ আরেকজনের মৃত্যু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩ মার্চ ২০২৬ ১৩:৩৯

নিহত আব্দুর রহিম।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের কলাতলীতে এলপিজি স্টেশনে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম আব্দুর রহিম (৩৯)।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ১০ জনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হলো।

নিহত আব্দুর রহিমের ছোট ভাই নুর আহমদ জানান, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কলাতলীর কক্সবাজার এলপিজি স্টেশনের আগুনে দগ্ধ হলে আব্দুর রহিমসহ ছয়জনকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আবু তাহের ও আব্দুর রহিমকে একসঙ্গে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিম মারা যান।

বিজ্ঞাপন

আব্দুর রহিম কলাতলীর এন. আলমের মালিকানাধীন গ্যাস পাম্পসংলগ্ন একটি গ্যারেজের মালিক ছিলেন। তার বাড়ি বাড়ি পূর্ব কলাতলীর চন্দ্রিমা মাঠ এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডে তার গ্যারেজ ও ব্যক্তিমালিকানাধীন চারটি জিপ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনার সময় নিহত সিএনজি অটোরিকশাচালক আবু তাহেরের সঙ্গে তিনি গ্যারেজে অবস্থান করছিলেন। দুজন ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আগুনে আবু তাহেরের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ এবং আব্দুর রহিমের প্রায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়।

নুর আহমদ জানান, ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে স্বজনেরা কক্সবাজারে রওয়ানা হবেন।

কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন দগ্ধ আরও এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর শুনেছি। মরদেহ কক্সবাজারে পৌঁছালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের পর আগুন আশপাশের ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৩০টি গাড়ি, ১০টি বাড়িসহ বিভিন্ন অবকাঠামো পুড়ে যায়। আগুনে দগ্ধ ও আহত হন ১৫ জন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরদিন জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর