রংপুর: রংপুর নগরীতে ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ দখলের অভিযোগে ক্যাবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও পরিবারসহ গুলি করে হত্যার হুমকির মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই নেতাকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে জামিন মঞ্জুর করেন রংপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (কোতোয়ালি) আমলি আদালতের বিচারক রাশেদ হোসাইন।
জামিনপ্রাপ্তরা- রংপুর জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুন (৪৪) এবং জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব (৪৩)।
রংপুর মহানগর কোর্ট ইন্সপেক্টর শাহিন আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তাদের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করে চার্জশিট দাখিল পর্যন্ত জামিন দেন।
আরও পড়ুন-ক্যাবল ব্যবসায় মালিকানার ভাগ চেয়ে হত্যার হুমকি, বহিষ্কার রংপুর যুবদলের ২ নেতা
আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘‘ক্যাবল ওয়ানের মালিক আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন যুবলীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ ওরফে ‘কানা হারুন’ অবৈধভাবে কামাল কাছনা এলাকার ফিডের নিয়ন্ত্রণ দখল করেন। নিয়ম অনুসারে ফিড ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানালেও কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করেন। আলোচনায় গেলেই তারা উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছেন। আদালত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত ২৩ ফেব্রুয়ারি। গালিব ও তার অনুসারীরা কামাল কাছনা এলাকার ডিশ লাইন কেটে দেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি হারুনের স্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেন। এর জেরে রোববার (১ মার্চ) ক্যাবল ওয়ান অফিসে গালিবের নির্দেশে যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুসহ ১৫-২০ জন হামলা চালান। তারা ল্যাপটপসহ সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন, ব্যবস্থাপক পরাগকে মারধর করেন এবং জিএম কাফিকে ফোনে বলেন, ‘আজকের মধ্যে হারুনকে বাদ দিয়ে গালিবকে ফিড না দিলে বেডরুমে ঢুকে বউ-বাচ্চাসহ গুলি করে হত্যা করব।’ ভয়ে কর্মীরা অফিস তালাবদ্ধ করে পালান, ফলে রংপুরে সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন- রংপুরে ডিশ ব্যবসায়ীকে ‘হত্যার হুমকি’, এবার তাঁতীদল নেতা গ্রেফতার
ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলা-হুমকির দৃশ্য স্পষ্ট, যা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। র্যাব-১৩ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সোমবার রাতে গালিব ও মিথুনকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও আলামত জব্দ করা হয়েছে। দুটি মামলায় নিবিড় তদন্ত চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত।
এদিকে উপকমিশনার (অপরাধ) তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
আরও পড়ুন-রংপুরে ক্যাবল অফিসে সন্ত্রাসী হামলা: যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
ঘটনার পর যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি মনু ও গালিবকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সহদফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যক্তির অপরাধে সংগঠন দায়ী হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে।