Wednesday 04 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কক্সবাজার রুটে থামছে না ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৪ মার্চ ২০২৬ ১৬:০৬

পাথর নিক্ষেপে আহত ব্যক্তি।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা স্টেশনের পূর্বে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরে গুরুতর আহত হয়েছেন ট্রেনের একজন কর্মচারী।

সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী পর্যটন এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাবের আহমদ (৫২) ট্রেনে বেডিং পোর্টার হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি চকরিয়া স্টেশনে পৌঁছার আগে ডুলাহাজারা এলাকায় দুর্বৃত্তরা বাইরে থেকে পাথর নিক্ষেপ করে। এতে ওই ব্যক্তির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে প্রথমে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ডুলাহাজারা স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ‘সাবের আহমদের মাথায় প্রায় ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও জানা গেছে, কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তঃনগর ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতেও কক্সবাজারের রামু উপজেলায় চলন্ত ট্রেনে বাইরে থেকে ছোড়া পাথরে মাথায় আঘাত পান এক যাত্রী।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলরত ট্রেনগুলোতে ১৪৪ বার পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ৩৭ জন। ট্রেনের দরজা ও জানালার কাচ ভাঙাসহ বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার রুটে, চকরিয়া ও রামু উপজেলায়। এখানে এক বছরে অন্তত ৩৭ বার পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। আহতদের মধ্যে নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুও রয়েছে।

রেলের যাত্রী ইফতিয়াজ নূর বলেন, ‘ট্রেনের যাত্রীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। রেলওয়ে আইন, ১৮৯০-এর ১২৭ ধারায় বলা হয়েছে, যাত্রীদের ক্ষতি হতে পারে জেনেও কেউ পাথর নিক্ষেপ করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনের প্রয়োগ খুব একটা চোখে পড়ে না।’

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, ‘ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা রোধে রেলওয়ে নিয়মিত বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে, প্রচারপত্র বিতরণ করা হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম-দোহাজারী-কক্সবাজার রেলওয়ে যাত্রী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু সাঈদ তালুকদার বলেন, ‘কক্সবাজারে সড়কপথে যাতায়াত ভোগান্তির হওয়ায় মানুষ রেলপথে বেশি ঝুঁকছেন। এতে একটি মহলের স্বার্থে আঘাত লেগে থাকতে পারে। যাত্রীরা যাতে ট্রেনে যাতায়াতে নিরুৎসাহিত হন, সে উদ্দেশ্যে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটতে পারে।’

যাত্রীদের দাবি, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নজরদারি বাড়ানো হোক।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ. এম. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর যাতায়াতে যে স্বস্তি এসেছিল, তা ধরে রাখতে হলে নিরাপত্তা জোরদার ও আইন প্রয়োগে কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর