কক্সবাজার: কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার এন. আলম এলপিজি গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ মোতাহের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল আটটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবু তাহের ও আব্দুর রহিম মারা যান।
মোতাহেরের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাতিজা মো. হৃদয় বাবু। তিনি জানান, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মোতাহের চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার ওই গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে থাকা অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আরও সাতজন আহত ব্যক্তি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া গ্যাস পাম্পটি পরিচালনা করায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে বিস্ফোরক পরিদফতরের দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্যাস পাম্পটির জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতিপত্র এবং বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স ছিল না। প্রয়োজনীয় এসব অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনাটি পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতদের স্বজনরা বলছেন, অবহেলা ও অনিয়মের কারণেই তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণ দিতে হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। একই দাবিতে একটি মানববন্ধনও করেছে তারা।