Friday 06 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুরে ঈদের ধুম, রাতভর জমজমাট কেনাকাটা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ মার্চ ২০২৬ ১৩:৪৩

রংপুরের বিপণি বিতানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: সারাবাংলা

রংপুর: চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (সম্ভাব্য) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতিতে রংপুরে ঈদ কেনাকাটা পুরোদমে জমে উঠেছে। দিনের বেলা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত শপিংমল, মার্কেট ও ফুটপাতে উপচে পড়া ভিড়। শিশু থেকে বয়স্ক সবাই পছন্দের পোশাক, জুতা ও গয়না কিনতে ব্যস্ত। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবারও ঈদ অর্থনীতির আকার বড় হবে; রংপুরের মার্কেটগুলোয় কয়েকশ কোটি টাকার বেচাকেনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবে গতবারের তুলনায় ক্রেতা কিছুটা কম।

রংপুর নগরের জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্স, জেলা পরিষদ মার্কেট, সুপার মার্কেট, আরএমসি মার্কেট, জামাল মার্কেট, ছালেক মার্কেট, রজনীগন্ধ্যা মার্কেটসহ ইয়োলো, আম্ব্রেলা, ইনফিনিটি, আড়ং, দর্জিবাড়ি, বন্ড, ডায়মন্ড, বেঙ্গলবস, অঞ্জনের মতো শতাধিক আধুনিক শোরুম আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে। ক্রেতা আকর্ষণে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়, কেনাকাটায় উপহারের ঘোষণা দিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। অনেকে ভিড় এড়াতে অনলাইনেও কেনাকাটায় সক্রিয়।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, পাকিস্তানি পোশাক এবার ট্রেন্ডে শীর্ষে। সিল্ক, জর্জেট ও অরগ্যাঞ্জার কাজ করা সারারা-গারারা, থ্রি-পিসের দাম ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। মাস্টার কপি পাওয়া যাচ্ছে আড়াই থেকে ৪ হাজারে। জামদানি শাড়ি ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার, মেয়েদের লন-সালওয়ার-কামিজ, কুর্তি, পাগলু, বিপাশা বসু, জান্নাত-টু, আশিকী-২, জিপসি ৩৫০ থেকে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা। ছেলেদের কার্গো জিন্স, ফরমাল টি-শার্ট, থাই, ডিসকার্ড-২ ১০০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। শিশুদের লেহেঙ্গা, টপসেট ১ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজার, পাঞ্জাবি-ধুতি ৩৫০ থেকে ৫ হাজার এবং শেরওয়ানি ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জুতা-কসমেটিকস ও গয়নার দোকানেও নারী-শিশুদের ভিড়।

ছবি: সারাবাংলা

জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রশিদুজ্জামান জামান বুলবুল বলেন, ‘ঈদে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়। তবে মূল্যস্ফীতির কারণে দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিক্রির হার গতবারের চেয়ে কম। তারপরও ঈদ ঘনিয়ে আসায় ধুম পড়েছে।’

সেন্ট্রাল রোডের মিথিলা গার্মেন্টসের বিক্রেতা মেহেদি হাসান লিটন জানান, ‘সরকার পরিবর্তনের পর আগের মতো প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নেতাদের বড় ক্রয় কমেছে। অনেকেই এখন হিসাব করে খরচ করছেন।’

সেঁজুতি এক্সক্লুসিভের বিক্রেতা মেহেদি হাসান বলেন, ‘পাকিস্তানি পোশাক ট্রেন্ডিং। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভালো ভিড়, তাই রাত ১টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখছি।’

অন্যদিকে ফুটপাত ও হকারদের ব্যবসা জমজমাট। গ্রান্ড হোটেল মোড় থেকে ঢাউনহল চত্বর, স্টেশন রোড, মেডিকেল মোড়, হাঁড়িপট্টি রোড, সিও বাজার সর্বত্র ভ্যান ও অস্থায়ী দোকানে কাপড়, জুতা, লুঙ্গি, টুপি, আতরের পসরা। বিক্রেতা হোসেন বলেন, ‘দোকান ভাড়া-বিদ্যুৎ বিল নেই, তাই ভালো মানের কাপড়ও কম দামে দিতে পারি। নিম্ন-মধ্যবিত্ত দুই শ্রেণির ক্রেতাই আসছেন।’

আরেক বিক্রেতা আলী জানান, ‘অভিজাত মলের চেয়ে আমাদের খরচ কম, তাই সাশ্রয়ী দামে ক্রেতারা সন্তুষ্ট।’

তবে অনেক ক্রেতা দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট। সালেক মার্কেটে শামছুল ইসলাম বলেন, ‘দাম বেশি, ইচ্ছে থাকলেও সব কিনতে পারছি না।’

শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান, মেয়ের জামা ২ হাজার ৭০০ টাকায় কিনলাম, কিন্তু পছন্দ পুরোপুরি হয়নি। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ঈদ এবার কিছুটা ফিকে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানিয়েছেন, ঈদ কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি মার্কেটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকের নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট চলছে। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই যাতে নিরাপদে কেনাকাটা শেষ করে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে সারাদেশের মতো রংপুরেও নারী কারিগররা ঈদের পোশাকে অতিরিক্ত এমব্রয়ডারি ও ডিজাইনে ব্যস্ত। সরকারও সম্ভাব্য ২১ মার্চ ঈদ ধরে ১৮ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলে কেনাকাটার গতি আরও বাড়বে বলে আশা ব্যবসায়ীদের। রংপুরের ঈদ বাজার এখন শুধু উৎসব নয়, অর্থনীতিরও বড় চালিকাশক্তি।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর