Friday 06 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

শুষ্ক মৌসুমেও ভবদহে জলাবদ্ধতা, সমাধানের দাবি স্থানীয়দের

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ মার্চ ২০২৬ ২০:২৫

জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে ভবদহের মানুুষ।

যশোর: শুষ্ক মৌসুমেও যশোরের ভবদহ অঞ্চলের বহু গ্রামে জলাবদ্ধতা কমেনি। বাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি, শ্যাওলায় ভরা পরিবেশ—দেখলে পরিত্যক্ত বাড়ি মনে হলেও সেখানেই মাসের পর মাস বসবাস করছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, শুধু নদী খনন নয়, স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিকল্পিতভাবে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু করতে হবে।

এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলার মনোহরনগর গ্রামের বাসিন্দা রেখা হালদার জানান, সাত মাসের বেশি সময় ধরে তার বাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি। বাড়িতে ঢোকার একমাত্র পথ বাঁশের সাঁকো। ঘরের ভেতর কিছুটা পানি কমলেও উঠান, টিউবওয়েল ও টয়লেট পানিতে ডুবে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রেখা হালদার বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে এই অবস্থা। বর্ষায় তো বাড়িতে থাকাই যায় না। তখন গরু-ছাগল আর জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু রাস্তায় গিয়ে থাকতে হয়। এভাবে কি মানুষ বাস করতে পারে?’

তার প্রতিবেশী গৌরি হালদারের অবস্থাও প্রায় একই। বাড়িতে হাঁটুসমান পানি থাকায় তার দুই ছেলে ও দুই পুত্রবধূ গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেছে। তিনি বলেন, ‘গোয়ালঘর, উঠান—সবখানে পানি। ঘরের পানি কমলেও উঠান এখনো কাদায় ভরা। কতদিন শুকনো মাটি দেখিনি, মনে নেই।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশ নিয়ে গড়ে উঠেছে ভবদহ অঞ্চল। পলি জমে পানিনিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদ নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে দীর্ঘ চার দশক ধরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার।

জলাবদ্ধতা নিরসনে অতীতে প্রায় হাজার কোটি টাকার ২১টি প্রকল্প নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি বলে দাবি স্থানীয়দের। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ড তিনটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে হরি, তেলিগাতী, হরিহর, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের কাজ চলছে। একই প্রকল্পে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪টি খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৪৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৪৯ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে অভয়নগরের আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, শুধু নদী খনন করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখর বিশ্বাস বলেন, ‘নদী কাটার কাজ চলছে, কিন্তু কোথাও কোনো সাইনবোর্ড নেই। কীভাবে কাজ হচ্ছে, তার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। নদী কেটে ফেলে রাখলে জোয়ারের পলিতে দ্রুত আবার ভরাট হয়ে যাবে। এখনই টিআরএম চালু করতে না পারলে নদী কাটা বৃথা হবে।’

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ‘নদী খননের পাশাপাশি টিআরএম চালু করা জরুরি। পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় মাথাভাঙ্গা নদীর সঙ্গে ভৈরব নদের পুনঃসংযোগ ঘটাতে পারলে পলি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নদীগুলো সচল রাখা সম্ভব হবে।’ একইসঙ্গে তিনি নদী খননের কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।

যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি বলেন, ‘ছয়টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের কাজ চলছে। এ ছাড়া ২৪টি খালের ৭৮ দশমিক ২৩০ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ শুরু হবে। আমডাঙ্গা খালের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলে সংস্কারকাজ শুরু হবে। আপৎকালীন পানি নিষ্কাশনের জন্য ৩৫ কিউসেক ক্ষমতার আটটি পাম্প স্থাপনের কাজও চলছে। পলি ব্যবস্থাপনার জন্য ২৮০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।’

এ দিকে, ভবদহ সমস্যার সমাধান নিয়ে শনিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পর্যালোচনা বৈঠক আহ্বান করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৈঠকে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত শোনা হবে বলে জানা গেছে।

সারাবাংলা/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর