সাতক্ষীরা: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দাম বাড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সাতক্ষীরায় হঠাৎ করে তেলের চাহিদা বেড়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে ভিড় করছেন চালকেরা।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সাতক্ষীরা সদরের মেসার্স এবি খান ফিলিং স্টেশনে গিয়ে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের লম্বা লাইন দেখা যায়। গত রাত থেকেই শহরের বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
পেট্রোল নিতে আসা বাইকার রতন মন্ডল বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের খবর শুনে তিনি তেল নিতে এসেছেন। তবে পাম্পে এসে দেখেছেন দাম আগের মতোই রয়েছে। তিনি দুই লিটার পেট্রোল নিয়েছেন, যার দাম পড়েছে প্রতি লিটার ১১৬ টাকা ৪২ পয়সা।
শহরের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা কয়েকজন মোটরসাইকেলচালক বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তারা সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। এতে দূরপাল্লায় চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
খুলনার ডিপো থেকে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ না আসায় জেলার পাম্পগুলোতে মজুত দ্রুত কমে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এবি খান পেট্রোল পাম্পের স্বত্বাধিকারী তাছিন কবীর খান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সবাইকে কিছুটা তেল দেওয়ার জন্য মোটরসাইকেল প্রতি ৩০০ টাকার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এ ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হবে। পাম্পে টানানো তালিকা অনুযায়ী পেট্রোল ১১৬ টাকা ৪২ পয়সা, অকটেন ১২০ টাকা ৪২ পয়সা এবং ডিজেল ১০০ টাকা ৪০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে।’
এদিকে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো বা মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে সাতক্ষীরা সদরের মেসার্স এবি খান, সংগ্রাম ও মেসার্স কপোতাক্ষ ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, সংগ্রাম ফিলিং স্টেশনে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে সাংবাদিক, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সচেতন করা হয় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।