Friday 06 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

২ শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার পরিকল্পনায় হত্যা— নিহত ইবি শিক্ষিকার স্বামীর অভিযোগ

ইবি করেসপন্ডেন্ট
৬ মার্চ ২০২৬ ২৩:৫৫

কুষ্টিয়া: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের মামলায় দুই সহকর্মী ও এক কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারে তিনি এ অভিযোগ উল্লেখ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা। এতে ঘটনার সময় একই কক্ষ থেকে আত্মহননের চেষ্টারত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান করে চারজনকে আসামি করা হয়।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন- সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান। শ্যাম সুন্দর আসমা সাদিয়ার আগে ওই বিভাগের সভাপতি ছিলেন। অপর আসামি বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার। কিছুদিন আগে তাকে উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে বদলি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আসমার স্বামী অভিযোগ করেন, ওই দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা এবং নির্দেশে কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান আসমাকে হত্যা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও আসামি করা রয়েছে। তবে সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে ফজলুর রহমান সমাজকল্যাণ বিভাগের বিভাগীয় তহবিল থেকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আসমা সাদিয়া বিভাগের সভাপতি হন। আগের সভাপতি শ্যাম সুন্দর তার সময়ের বিভাগের আয়-ব্যয়ের হিসাব আসমাকে বুঝিয়ে দেননি।

‘সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার আসমা সাদিয়াকে বলেন, তারা যেভাবে বলবেন এবং কাগজ সামনে ধরবেন, সেখানে তাকে শুধু স্বাক্ষর করতে হবে। সে সময় আসমা বিভাগের টাকা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে খরচ ও অপব্যবহার করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তখন থেকেই আসমার সঙ্গে বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দরের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দর মিলে অফিস সহায়ক ফজলুরকে দিয়ে আসমাকে বিভিন্ন সময়ে অসহযোগিতা ও হেনস্তা করতে থাকেন। এরপর শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সামনে আসমাকে ফজলুর অপমানজনক শব্দ ও অশালীন আচরণ করলেও হাবিবুর কোনো প্রতিবাদ করেননি।’

আরও বলা হয়, আসমা এসব ঘটনা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন রোকসানা মিলিকে মৌখিকভাবে অবহিত করলে ডিনের নির্দেশে বিভাগে সভাও হয়। একপর্যায়ে কয়েক মাস আগে ডিনের নির্দেশে বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভাগীয় সভাপতিকে অসহযোগিতা করায় ফজলুরকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষক হাবিবুর ফজলুরকে পুনরায় সমাজকল্যাণ বিভাগে আনতে আসমাকে চ্যালেঞ্জ করেন। অন্যদিকে বিভাগের কর্মকর্তা বিশ্বজিৎকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বদলি করা হয়। ওই বিভাগে তার স্থলে যোগদানকৃত নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে আসমা তাকে মোবাইল ফোনে অনুরোধ করলেও তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি।

‘পরে ৪ মার্চ বিভাগের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে তিনি থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের দ্বিতীয় তলার সমাজকল্যাণ বিভাগের ২২৬ নাম্বার কক্ষে নিজ অফিস রুমে অপেক্ষা করছিলেন। তখন বিশ্বজিৎ, শ্যাম সুন্দর ও হাবিবুর রহমানের সরাসরি প্ররোচনায় এবং নির্দেশনায় ফজলুর রহমান ধারালো ছুরি নিয়ে আসমার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে তাকে হত্যা করেন।’

প্রসঙ্গত, ৪ মার্চ বিকেল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে আত্মহননের চেষ্টা করেন একই বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ময়নাতদন্ত করে তার মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ জোহর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর