রাজবাড়ী: রাজবাড়ী পৌরসভার ড্রেন ও যত্রতত্র জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো শহর। সকাল থেকে রাত; সব সময়ই মশার উপদ্রবে জনজীবন এখন বিষিয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী নাগরিকদের অভিযোগ, গত দুই-তিন বছর ধরে মশক নিধনে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম না থাকায় ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি মশার কয়েলের অতিরিক্ত ব্যবহারে দেখা দিচ্ছে শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতি বছর নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করলেও পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনের মতো ন্যূনতম নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, ইতোমধ্যে ওষুধ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পৌরসভার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ, ড্রেনের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নিয়মিত নিধন কার্যক্রমের অভাবে মশার উপদ্রব বেড়েছে। আগে শহরে মশকনিধন কার্যক্রম স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দেখভাল করতেন। কিন্তু সেই জনপ্রতিনিধি না থাকায় ২ থেকে ৩ বছর যাবৎ শহরের এলাকায় মশা নিধনের কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। ড্রেনে দেওয়া হয়নি কীটনাশক। ফগার মেশিনের শব্দও কেউ পাইনি।
রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভকেশনাল রোডের বাসিন্দা মো. শামীম হোসেন বলেন, বাড়ির পাশে পৌরসভার ড্রেন থাকায় সবসময়ই প্রচুর মশার উপদ্রব থাকে। আর এই মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে সব সময় মশার কয়েল ব্যবহার করতে হয়। কয়েল ব্যবহার না করলে মশার কামড়ে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশা বাহিত বিভিন্ন রোগের শঙ্কা থাকে, তেমনি কয়েল অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পরিবারের মহিলাদের শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। অথচ পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে থেকে প্রতিবছর নাগরিক সুবিধা দেবার নামে কোটি কোটি টাকা ট্যাক্স নিলেও মশানিধন, রাস্তাঘাটের পাশের জঙ্গল পরিষ্কার, ড্রেন পরিষ্কারের মতো ন্যূনতম সেবা দিচ্ছে না।
পৌরসভার বিনোদপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলা মন্দির এলাকার বাসিন্দা সুদিপ্ত বলেন, আমাদের এখানে একটি বড়ো ড্রেন রয়েছে। বাজারের পানি এখান দিয়ে যাই। এ ছাড়া একটি অপরিষ্কার নালা রয়েছে। আমাদের এখানে প্রচুর মশা। প্রায় ৩ বছর যাবৎ আমাদের এখানে মশা নিধনের কোনো কার্যক্রম দেখিনি। মশা নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এমনভাবে মশা বৃদ্ধি পেয়েছে যে বাড়ি-ঘরে কয়েল ছাড়া বসবাস করাই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে গিয়েছে।

যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ
তিনি আরও বলেন, বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যে পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে তা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি, মশার কয়েল কিনতে লাগছে অতিরিক্ত টাকা। পৌর নাগরিক হিসেবে আমাদের দাবি মশা নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষ পৌরসভার সব এলাকায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুহুল বলেন, আমাদের বাসার পাশে ড্রেন ও কিছু ডোবা থাকায় সেগুলো মশার প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আবার অনেক জায়গায় ড্রেন ও রাস্তার পাশে ঝোপ পরিষ্কার না করায় সেসব জায়গায় মশা জন্মাচ্ছে। যা দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে। আমরা চাই পৌর কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
লক্ষ্মীকোল সাহাপাড়া বাসিন্দা বিজয় সেন বলেন, মশার কথা নতুন করে কি আর বলব। আমাদের এখানে কখনো মশা মরার মেডিসিন দেয় নাই। প্রতিদিন মশার কয়েল জ্বালানো লাগছে। এতে বাড়ছে অতিরিক্ত খরচ। সেই সঙ্গে কয়েলের ধোঁয়াতে সৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন রোগ।
রাজবাড়ী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহা. রবিউল হক বলেন, ‘আমরা মশক নিধনের কাজ শুরু করেছি। মসকুইটো ২০০ লিটার মেডিসিন সংগ্রহ করেছি। আমাদের ৩টি ফগিং মেশিন সচল রয়েছে। লার্ভিসাইডিং মারার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত ওষুধ আছে। আমরা খুব শিগ্গিরই ড্রেনগুলোতে এই ওষুধগুলো দেবো।