রাজবাড়ী: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে এবার চলাচল করবে ১৬টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ।
রোববার (৮ মার্চ) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
সভায় আরও জানানো হয়, যাত্রীরা যেন ঈদের আগে বাড়িতে ও ঈদের পরে কর্মস্থলে নির্বিঘ্নে ফিরতে পারেন সে লক্ষ্যে ঈদের আগে পাঁচ দিন ও পরে পাঁচ দিন নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে। যাত্রীদের জন্য ওয়াশ ব্লক, নারীদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, দৌলতদিয়া বাইপাস সড়কে রাতে লাইটিং ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে ফেরিঘাটে যানজট এড়াতে পন্টুনে রিকশা, ইজিবাইক না উঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও চুরি-ছিনতাই রোধে যাত্রীদের সচেতন করতে মাইকিং করা হবে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আমাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ঈদুল ফিতরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে রো রো, ইউটিলিটি ও কে টাইপসহ বহরে মোট ১৬টি ফেরি থাকবে। এছাড়াও দৌলতদিয়া প্রান্তে ৩,৪ ও ৭ নম্বরসহ মোট ৩টি ঘাট সচল থাকবে। ১৬টি ফেরি ও ৩টি ঘাটের মাধ্যমে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারবে।
দৌলতদিয়া লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী পারাপারের জন্য ২০ টি লঞ্চ চলাচল করবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। থানা পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশ, ডিবি পুলিশসহ একাধিক টিম থাকবে। এছাড়াও নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ আমাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে জেলা পুলিশ সর্বদা মাঠে থাকবে।
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, যাত্রী সাধারণের যেন ভোগান্তি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যে কোনো মূল্যে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা যেন ভালো হয় এজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন কাজ করবে। দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ঈদের আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট থাকবে মোবাইল কোর্ট করার জন্য। যাত্রীদের থেকে পরিবহন মালিক শ্রমিকরা যেন অতিরিক্ত ভাড়া না নিতে পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট থাকবে। দৌলতদিয়া ঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। অস্থায়ী পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হবে, মায়েদের জন্য দুগ্ধ পান করানোর ব্যবস্থা করা হবে। রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া টার্মিনালে যানবাহনের ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান থাকবে। সচেতনতামূলক বিভিন্ন ব্যানার ঘাট এলাকায় থাকবে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
সভাতে আরও বক্তব্য দেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ বিশ্বাস,বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন,বিআইডব্লিউটিএ আরিচা বন্দর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সহ-সভাপতি মুরাদ হাসান,বিআরটিএ রাজবাড়ীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ অহিদুর রহমান প্রমুখ।