গাইবান্ধা: রমজানে ব্যস্ততা বেড়ে যায় গাইবান্ধার মুড়ির গ্রাম হিসেবে পরিচিত জগৎরায় গোপালপুর গ্রামে, গ্রামটির অনেক পরিবার মুড়ি তৈরির সঙ্গে জড়িত। সময়ের ব্যবধানে মেশিনে মুড়ি তৈরি হলেও এই গ্রামের হাতে তৈরি মুড়ির কদর রয়েছে দেশজুড়ে। গ্রাম কিংবা শহরে, ইফতারে যত পদই থাকুক না কেন, সঙ্গে থাকতে হবে মুড়ি, গ্রাম বাংলায় অতিথি আপ্যায়নেও মুড়ির কদর রয়েছে যুগ যুগ ধরে। তাই রমজানকে ঘিরে গাইবান্ধার মুড়ির গ্রাম হিসেবে পরিচিত জগৎরায় গোপালপুর গ্রাম এখন বেশ ব্যস্ততা।
রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করার কারণে অনেকেই বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত মুড়ি এড়িয়ে চলেন। এক্ষেত্রে তারা খোঁজেন গ্রামের নারীদের হাতে তৈরি টাটকা মুড়ি। মুড়ির কারিগররা জানান, মুড়ি তৈরির জন্য প্রথমে ধান সিদ্ধ করে দুই থেকে তিন দিন রোদে শুকাতে হয়, তারপর মেশিনে চাল বানিয়ে লবণ মাখিয়ে আবারও রোদে শুকাতে হয়, পরে কড়াইয়ে বালুর সঙ্গে চাল ভেজে নারীদের নিপুণ হাতের দক্ষতায় তৈরি হয় হাতে ভাজা মচমচে সুস্বাদু মুড়ি।
গাইবান্ধা সদর উপজেলা থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের জগৎরায় গোপালপুর বৈরাগীপাড়া গ্রামের বেশির ভাগ পরিবারের আয় উপার্জনের একমাত্র পথ মুড়ি ভাজা। সারা বছরই নির্দিষ্ট পরিমাণ মুড়ি ভাজলেও রমজান আসলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় এই গ্রামের নারী-পুরুষদের। এ মাসের রোজগার দিয়ে বছরের কয়েকটি মাস তারা সচ্ছলভাবে কাটাতে চান। বাড়ির মহিলাদের পাশাপাশি ছোট ছেলে মেয়েরাও মুড়ি ভাজার কাজে তাদের মা, দাদি-নানিদের সহযোগিতা করছে।

মুড়ি ভাজছেন একজন নারী।
গ্রামের মুড়ি উৎপাদনকারী পরিবারের সদস্যরা বলছেন, সারা বছরই মুড়ির চাহিদা থাকে। তবে বাড়ির মহিলারাই এখন ওই পেশাটিকে টিকিয়ে রেখেছেন। আর ধান কেনা, খড়ি সংগ্রহ করে আনা এবং মুড়ি বাজারজাতের বিষয়টি পুরুষরাই করে থাকেন। তারা মুড়ি বস্তায় ভরে গাইবান্ধা শহরে নিয়ে গিয়ে ব্যবসায়িদের কাছে বা পাড়ায় পাড়ায় ফেরি করে বিক্রি করেন। রমজান আসলেই এই গ্রামে পাইকারদের ভিড় বেড়ে যায়। এ গ্রামের শতাধিক পরিবার এখন ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত। রমজান মাসে এ সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়ে। বাড়তি আয়ের আশায় অনেকেই মুড়ি ভাজার ব্যাবসার দিকে ঝুঁকে পড়ে এ সময়।
কারিগররা আরও জানান, চাল, লবণ, খড়িসহ মুড়ি তৈরির সব উপকরণের দাম বেড়েছে, তাছাড়া, মেশিনে তৈরি মুড়ি বাজারে প্রভাব ফেলেছে যার কারণে এখন এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিক্রির জন্য মুড়ি বস্তায় ভরা হচ্ছে।
মুড়ির কারিগরদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন ( বিসিক) গাইবান্ধার সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস জানান, তাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে, মুড়ির উৎপাদন বাড়াতে বিসিকের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে মুড়ি ক্ষুদ্র শিল্প হিসেবে দাঁড়াতে পারবেন, পাশাপাশি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন মুড়ির গ্রামের কারিগররা।