কক্সবাজার: কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নে আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির চাল নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। গ্রহীতারা বলছেন, বিতরণ করা চাল নিম্নমানের, দুর্গন্ধযুক্ত এবং অনেকটাই খাবার অনুপযোগী। এ ঘটনায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে ওই এলাকায় চাল বিতরণ শুরু হওয়ার পরে এ অভিযোগ ওঠে। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমও চালের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আব্দুল হাকিম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষ্যে গরিব ও অসহায় মানুষদের জন্য সরকার যে চাল দিয়েছে, তা একেবারেই নিম্নমানের এবং অনেকটাই খাবার অনুপযোগী। এ ধরনের চাল বিতরণ হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।’
তিনি বলেন, ‘এসব চাল কেনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
গ্রহীতাদের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু তাহের বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব, ঈদগাঁও উপজেলা) বিধান বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগটি তিনি পেয়েছেন। তবে এত বিপুল পরিমাণ চালের বস্তা খুলে ভালো-মন্দ যাচাই করে ফেরত দেওয়া বাস্তবে কঠিন।
এদিকে, ঈদগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরীর সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
চাল নিতে আসা কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈদের সময় সরকার আমাদের মতো গরিব পরিবারগুলোর জন্য মাত্র ১০ কেজি করে চাল দেয়। সেই চালও যদি গন্ধযুক্ত ও খাবার অনুপযোগী হয়, তাহলে আমরা খাব কী?’ তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে ঈদগাঁও ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৬০টি পরিবারের জন্য প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে মোট ১৬ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে এই চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।