চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পারিবারিক কাঠামো ও সামাজিক মূল্যবোধ। একসময় যাদের স্নেহ-ভালোবাসায় সন্তানরা বড় হয়েছে, জীবনের শেষ বয়সে সেই বাবা-মায়ের অনেকেই এখন ঠাঁই নিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে। চাঁপাইনবাবগঞ্জেও দিন দিন বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেওয়া প্রবীণ মানুষের সংখ্যা, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
জেলার একটি অসহায় বৃদ্ধাশ্রমে বর্তমানে প্রায় ১৯ থেকে ২০ জন নারী ও পুরুষ প্রবীণ বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সন্তানদের অবহেলা, পারিবারিক ব্যস্ততা কিংবা প্রবাসে থাকার কারণে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ একাকীত্ব দূর করতে স্বেচ্ছায় এই বৃদ্ধাশ্রমে এসেছেন।
বৃদ্ধাশ্রমে থাকা প্রবীণ আব্দুল করিম, সামাদ ও সরিফুল, কয়েকজন জানান, জীবনের শেষ সময়ে পরিবারের সান্নিধ্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। কিন্তু নানা কারণে অনেক সময় সন্তানদের কাছ থেকে সেই সময় ও যত্ন পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়েই তাদের এখানে থাকতে হচ্ছে। তারা বলেন, এখানে থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা থাকার ব্যবস্থা থাকলেও পরিবারের ভালোবাসা ও সান্নিধ্যের অভাব সবসময় অনুভূত হয়।
সমাজবিদদের মতে, আধুনিকতার প্রভাবে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং একক পরিবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে পরিবারে প্রবীণ সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ কমে যাচ্ছে। যা প্রবীণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন মমিন বলেন, ‘এখানে যারা আছেন তাদের বেশিরভাগই অসহায় ও অবহেলিত। আমরা চেষ্টা করছি তাদের থাকার জায়গা, খাবার ও প্রয়োজনীয় যত্নের ব্যবস্থা করতে। তবে সবচেয়ে বড় অভাব হলো পরিবারের ভালোবাসা ও সময়।’
তিনি আরও বলেন, সমাজের সকলের উচিত প্রবীণদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়া এবং পরিবারে তাদের যথাযথ সম্মান ও যত্ন নিশ্চিত করা। কারণ বাবা-মা শুধু পরিবারের সদস্য নন, তারা জীবনের প্রথম শিক্ষক এবং সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।