Saturday 14 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদযাত্রায় যশোরের দুই মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ভোগের আশঙ্কা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৪ মার্চ ২০২৬ ২২:৪৬

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি, যা সড়কে বাড়াচ্ছে ভোগান্তি।

যশোর: ঈদকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দুই সড়কে বাড়ছে দুর্ভোগের আশঙ্কা। যশোর-খুলনা ও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চলমান উন্নয়নকাজের ধীরগতি, খোঁড়াখুঁড়ি ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে এরইমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে যানজট ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন যাত্রী, চালক ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বর থেকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের বসুন্দিয়া অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ঢালাইয়ের কাজ চলছে। কাজের কারণে মহাসড়কের একপাশ খোঁড়া থাকায় অন্য পাশ দিয়ে যান চলাচল করছে। এতে ব্যস্ত এ সড়কে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদযাত্রা ঘনিয়ে আসায় এই জট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যশোর থেকে খুলনা পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের আরও কয়েকটি স্থানে একই ধরনের সমস্যার কারণে যানজট হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখা গেছে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে। মহাসড়কটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অনেক স্থানে ইট বিছিয়ে কোনোভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আবার কোথাও ধীরগতির কাজের কারণে সড়কের বড় অংশ বেহাল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য এই সড়ক কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কটি খুলনা অঞ্চলের সঙ্গে রাজশাহী ও উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। প্রতিদিন এ পথে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চলমান উন্নয়নকাজের ধীরগতির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, কোথাও উঠে গেছে পিচ, আবার কোথাও রাস্তার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঈদযাত্রায় এই সড়ক বড় ধরনের দুর্ভোগের কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে ট্রাকচালক সালাম হোসেন বলেন, ‘এ সড়কে চলতে গিয়ে প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। গর্তে পড়ে গাড়ির স্প্রিং ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। তবু জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময়মতো মালামাল পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাক উল্টে যাচ্ছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বর্ষাকালে গর্তে পানি জমে সড়ক আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’

এদিকে গত ২ মার্চ যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঝিনাইদহ উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি। মানববন্ধনে সংগঠনটির সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নের অগ্রগতি হতাশাজনক। তিন বছরে মাত্র ২ শতাংশ কাজ এগিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় বক্তারা দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে ঈদের পর মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।

তবে যশোর-বেনাপোল, যশোর-সাতক্ষীরা, যশোর-মাগুরা ও যশোর-নড়াইল মহাসড়কে বড় ধরনের খানাখন্দ বা মেরামতকাজ না থাকায় ঈদযাত্রায় এসব সড়কে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর, যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘যশোর-খুলনা মহাসড়কের বসুন্দিয়া অংশে ঢালাইয়ের কাজ চলমান থাকায় ঈদের আগে তা শেষ করা সম্ভব নয়। এ কারণে সেখানে যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।’

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের অবস্থা ‘নাজুক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কারকাজ চললেও ঈদের সময় সেখানে কিছুটা যানজট হতে পারে। তবে অন্য মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙাচোরা সড়কের পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার, থ্রি হুইলার ও ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচলও যানজটের অন্যতম কারণ। কোথাও কোথাও সড়ক প্রশস্তকরণ ও মেরামতকাজ চলায় যানবাহন ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর