চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে গত কয়েক দিন ধরে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) এটি তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বাস, ট্রাক ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
তবে এ সংকটকে গ্রাহকরা কৃত্রিম বলে অভিযোগ করছেন। অন্যদিকে পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থিত মেসার্স হোসেন ফিলিং স্টেশন ও মহানন্দা বাস কাউন্টার এলাকায় অবস্থিত এমদাদ ফিলিং স্টেশনে শত শত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে। আর মেসার্স একে খান পেট্রোল পাম অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলাসহ বাকি উপজেলার বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পেই তেল সরবরাহ নেই বলে তেল বিক্রি বন্ধ আছে।
তেল নিতে আসা সফিক বলেন, ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে অনেকক্ষণ যাবৎ তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা পেশাজীবী এবং মোটরসাইকেলেই আমাদের চলার একমাত্র বাহন। তাই তেলের জন্য বাধ্য হয়েই লাইন ধরতে হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক।
তেল নিতে আসা আরেক মোটরসাইকেল আরোহী করিম বলেন, শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ২০০, আবার কোনোটিতে ১০০ টাকার তেল দিচ্ছে। আবার কোনো কোনো পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ আছে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত এবং প্রশাসনের বিষয়গুলো নজরে নেওয়া উচিত।
মেসার্স এমদাদুল পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার শামসুল আলম বলেন, আগে ডিপো থেকে ইচ্ছামতো তেল পাওয়া যেতো। এখন ডিপো থেকে আমাদেরকে চাহিদা অনুযায়ী তেল দিচ্ছে না। এ ছাড়া, গ্রাহকরা প্রায় প্রতিদিনই তেল নেওয়ার জন্য পাম্পে আসছে। আগে যে গ্রাহক ৩ বা ৫ দিন পর পাম্পে তেল নিতে আসতো তারা এখন প্রতিদিনই পাম্পে ভিড় জমাচ্ছে তেল নেওয়ার জন্য।
মেসার্স হোসেন পেট্রোল পাম্পের মালিক জাহাঙ্গীর জানান, গতকাল সন্ধ্যায় পেট্রোল ও অক্টেন তিন হাজার লিটার করে পেয়েছি এবং ডিজেল সাড়ে চার হাজার লিটার পেয়েছিলাম। যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ডিজেল বিক্রি করে শেষ হয়ে গেছে। এখন গ্রাহকদের পেট্রোল ও অক্টেন দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া গতকাল অক্টেন ও পেট্রোলের সরবরাহ না থাকায় তেল বিক্রি বন্ধ ছিল।