Wednesday 18 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মুন্সীগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে স্বস্তির ঈদ যাত্রা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ মার্চ ২০২৬ ১৩:২৫

ছবি: সংগৃহীত।

মুন্সীগঞ্জ: ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং পদ্মা সেতু হয়ে নির্বিঘ্নে দক্ষিণবঙ্গে ছুটছে ঘরমুখো মানুষ। দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মূল প্রবেশপথ হিসেবে খ্যাত ওই মহাসড়কটিতে ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও, নেই দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা। এতে স্বস্তিতে গন্তব্যে যাচ্ছে দক্ষিণের যাত্রীরা।

বুধবার (১৮ মার্চ) ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে রাত থেকে নাড়ির টানে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করে ঘরমুখো মানুষ।

এ কারণে দক্ষিণের প্রবেশপথ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকেই বাড়তে থাকে যানবাহনের চাপ। তবে কোথাও কোনো বিড়ম্বনা নেই।

বিজ্ঞাপন

বরাবরের মতো এবারের ঈদ যাত্রায় এক্সপ্রেসওয়েতে দূরপাল্লার গণপরিবহণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ছোট যান ও মোটরসাইকেলের আধিক্য দেখা গেছে এক্সপ্রেসওয়েতে। স্বস্তিতে ঈদ যাত্রা করতে পেরে আনন্দিত যাত্রীরা।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহামুদুল হক জানান, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে দুটি মোবাইল টিম ও চারটি পেট্রোল টিমসহ মোট ছয়টি দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশের নিয়মিত টহল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ জোর দেওয়ায় এক্সপ্রেসওয়ের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন শেখ জানান, এবারের ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতুতে টোল প্লাজার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ৩ সেকেন্ডে ১০টি গাড়ি টোল প্রদান করে সেতু পার হচ্ছে। মোটরসাইকেলের জন্য ৩টি আলাদা লেনসহ মোট ১০টি লেনে টোল আদায় করা হচ্ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে প্রায় ৬০ হাজার গাড়ি পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। যানজট নিরসনে এবার পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে একটি বিশেষ ‘বাস বে’ নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে একসাথে ১০-১৫টি বাস দাঁড়াতে পারছে, যার ফলে টোল প্লাজার প্রবেশমুখে যানবাহনের বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে না।

সকাল থেকেই এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানের চাপ ছিল। তবে কোথাও গাড়ি থেমে থাকতে দেখা যায়নি। যাত্রীরা জানান, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এবার পদ্মা সেতু পার হতে তাদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। বিশেষ করে টোল প্লাজায় দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেতু কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত তৎপরতা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে, এবারের ঈদযাত্রা দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মেনহাজুল আলম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশের প্রায় পাঁচশতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান এসপি।

পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গের ঈদ যাত্রা নিবিঘ্ন করতে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সেতু কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর