Wednesday 18 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নেই যানজট, ​নাড়ির টানে উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের ঢল ​

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫২

যানজটমুক্ত সড়কে চলছে গাড়ি।

টাঙ্গাইল: ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই নাড়ির টানে ঘরমুখো হচ্ছে মানুষ। ঈদের সময় এলেই সবার মন ছুটে যায় শেকড়ের টানে গ্রামের বাড়ির দিকে। ঈদের আনন্দ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ।

বুধবার (১৮ মার্চ) থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে পুরোদমে শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে ঘণ্টায় ঘণ্টায়। তবে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সড়কে দীর্ঘ সারি বা যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বরাবরের মতো এবারও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৮ শতাধিক পুলিশ মহাসড়কের দায়িত্ব পালন করছে। রাস্তায় কোনো সড়ক দুর্ঘটনা এমনকি গাড়ি বিকল না হয়ে পড়লে যানজটের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছে পুলিশ। তবে স্বাভাবিক গতিতেই চলছে যানবাহন। তবে প্রচণ্ড রোদে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে কেউ কেউ খোলা ট্রাক-পিকআপে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জেলা পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার সার্বক্ষণিক মহাসড়ক পরিদর্শনে রয়েছেন। এদিকে দুপুরে যমুনা সেতু ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এলেঙ্গা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে সেতু কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করেছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা।

এর মধ্যে, সোমবার (১৬ মার্চ) রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা। অপরদিকে উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীত টোল আদায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা।

সরেজমিন ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাস স্টেশন, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীরা যাত্রীবাহী বাস ছাড়াও ট্রাক, পিকআপ, বিভিন্ন সড়কের লোকাল বাস, লেগুনায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। মহাসড়কে বাসের পাশাপাশি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলেই বেশি দেখা গেছে। যাত্রীরা পরিবহন করছে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার। ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক-পিকআপে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।

এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রী বুলবুল মোল্লা বলেন, চন্দ্রা থেকে আশেকপুর বাইপাস এলাকায় আসলাম ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে। সিরাজগঞ্জে যাব, ভাড়া বেশি যাচ্ছে। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আছে। যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। তারপরও ভাড়া বেশি চাচ্ছে। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি যেতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাগে। এখন ভাড়া চাচ্ছে ৪০০ টাকা। অনেকেই দেখছি খোলা ট্রাক-পিকআপে করে আসছে।

আরেক যাত্রী আজিজুল হাকিম বলেন, আশেকপুর বাইপাসে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বসে আছি। এখানে গাড়ি থামছে না। আমি সিরাজগঞ্জের যাব। যে গাড়ি থামছে ভাড়া বেশি চাচ্ছে। অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক- পিকআপে করে বাড়ি যাচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে কোথাও গাড়ির চাকা থামবে না। এ মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও কোনো যানজট নেই। যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে প্রায় ৮ শতাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া সেতুর উপর কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেই জন্য দুইটি রেকারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যানজট যাতে না হয় সেই জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চালক ও যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, ঈদকে নিরাপদ ও নিবিঘ্ন করতে এরই মধ্যে আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছি। গত ২ দিন ধরে যমুনা সেতু, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো যানজট লক্ষ্য করা যায়নি। যানজট নিরসনে যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশে আলাদা মোটরসাইকেলের লেনসহ ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এই মহাসড়কে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। প্রত্যাশা করি গত বছরের মতো এবারও যানজট মুক্ত ঈদ যাত্রা করতে পারবে উত্তরবঙ্গের মানুষ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর