ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ময়নাপাড়া গ্রামে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে কিসামত শুখানপুখুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি পঞ্চান্নান বর্মণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী।
অভিযোগে জানা গেছে, ওই গৃহবধুর পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনের ন্যায় কাজের জন্য বাইরে যায়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে কিসামত শুখানপুখুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি পঞ্চানন বর্মণ গৃহবধূর বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় গৃহবধুকে ধর্ষন করে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে পঞ্চানন বর্মণ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং স্থানীয়রা পঞ্চাননকে ১ লাখ টাকার জরিমানা এবং পাঁচ বার কান ধরে উঠবস করানো হয়।
অভিযোগে আরও জানা যায়, সালিশ বৈঠকের দিন পঞ্চাননের কাছে নগদ টাকা না থাকায় তার ব্যক্তিগত হিসাবের প্রেক্ষিতে এক লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। সেই চেকের টাকা ফেব্রুয়ারি মাসের ২৭ তারিখ পরিশোধের কথা থাকলেও বিষয়টিতে পঞ্চানন গড়িমসি শুরু করে। পরে টাকা না পেয়ে ভুক্তভোগী আদালতের শরণাপন্ন হয়। বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চলতি বছরের ১৬ মার্চ পুলিশকে নির্দেশ দেয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, স্থানীয় দেওয়ানিরা বসে পঞ্চাননকে জরিমানা করেন। নগদ টাকা না থাকায় এক লাখ টাকা চেক প্রদান করেন। কিন্তু পঞ্চানন এখন টাকা না দিয়ে উলটো টালবাহানা শুরু করেন। পরে উপায় না পেয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযুক্ত পঞ্চানন বর্মণ বলেন, আমার কাছ থেকে জোরপূর্বক চেক নিয়েছে। কেন জোরপূর্বক নিয়েছে জানতে চাইলে বলেন ওনার বাড়িতে গিয়েছিলাম সে জন্য।
ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ভিকটিম আদালতের শরনাপন্ন হলে আদালত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। ঘটনার সত্যতা পাওয়া আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে।