গাইবান্ধা: ঈদ মানেই আনন্দ, উৎসব আর প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার মুহূর্ত। কিন্তু সমাজের সব মানুষের জীবনে এই আনন্দ সমানভাবে ধরা দেয় না। নিম্নআয়ের বহু পরিবার প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম খায়, সেখানে ঈদের বিশেষ আয়োজন যেন বিলাসিতার নামান্তর। ঠিক এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে গাইবান্ধায় এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ ‘১ টাকার বাজার’ নিয়ে এগিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমাদের গাইবান্ধা’।
২০১৪ সাল থেকে তরুণদের সম্পৃক্ত করে মানবিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। তাদের বিশ্বাস দেশের প্রতিটি মানুষ একে অপরের সহোদর। তাই সমাজের আর্থ-সামাজিক বৈষম্য কমাতে এবং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত সবার প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য থেকেই বছরের পর বছর তারা কাজ করে যাচ্ছে দুঃস্থ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য।
সংগঠনটির কার্যক্রম শুধু খাদ্য সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরি, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ, বিভিন্ন দুর্যোগে সহায়তা সব ক্ষেত্রেই তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় তাদের মানবিক কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।
এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এবার ষষ্ঠবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ‘১ টাকার বাজার’। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এই ব্যতিক্রমী বাজারের মাধ্যমে ২৫০টি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে প্রতীকী মূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। প্রতিটি পরিবার মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে পাবে একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য প্যাকেজ।
এই প্যাকেজে থাকছে একটি সোনালী মুরগি, ২ কেজি চাল, সয়াবিন তেল, ডাল, চিনি, সেমাই, গুড়ো দুধ, লবণ, আলু, পেঁয়াজ, মিষ্টি কুমড়া, মরিচ, লেবুসহ মোট ১৮ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। আয়োজকদের মতে, এই প্যাকেজটি একটি পরিবারের ঈদের রান্নার মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৩টায় গাইবান্ধা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছিন্নমুল মহিলা সমিতির প্রধান নির্বাহী মুরশিদুর রহমান, গাইবান্ধা প্রেসক্লাব সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন, অধ্যাপক মুর্তজা বাণু, সাংবাদিক শাহাবুল শাহীন তোতাসহ সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের সভাপতি সায়হাম রহমান বলেন, ‘আমরা চাই ঈদের আনন্দ শুধু বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। ১ টাকার বাজার মূলত একটি প্রতীকী উদ্যোগ যাতে সহায়তা নেওয়া মানুষটি নিজেকে দানগ্রহীতা নয় বরং একজন ক্রেতা হিসেবে অনুভব করেন।’
সাধারণ সম্পাদক ডা.মুসাভির রহমান খান জানান, আমরা শুধু সহায়তা দিচ্ছি না বরং সম্মান বজায় রেখে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
স্থানীয়ভাবে এই আয়োজন এরই মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে এবং দেশের অন্যান্য এলাকাতেও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠবে।