রংপুর: রংপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠের পরিবর্তে রংপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম জামাত এবং সকাল ৯টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবি ডন, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক, এসপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা ঈদের নামাজ আদায় করেন।
জেলা প্রশাসনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, প্রধান জামাতটি মূলত কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে ইমামতি করার কথা ছিল কেরামতিয়া জামে মসজিদের খতিব মাওলানা বায়েজীদ হোসাইনের। কিন্তু আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়, দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টি এবং সম্ভাব্য শিলাবৃষ্টির শঙ্কা থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ঈদের দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা প্রশাসন ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ঈদ উদ্যাপনকে নিরাপদ ও সুন্দর করতে বিস্তারিত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ঈদগাহ মাঠের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা জোরদার, আলোকসজ্জা, শব্দ ব্যবস্থা, পানি ও ওজুর ব্যবস্থা। খারাপ আবহাওয়ার ক্ষেত্রে মডেল মসজিদে দুই ধাপে জামাতের ব্যবস্থা ছিল প্রস্তুত। বিগত বছরগুলোতে কালেক্টরেট ঈদগাহে ২০ হাজারেরও বেশি মুসল্লি অংশ নিতেন।
অন্যান্য প্রধান জামাতের তথ্যনুযায়ী রংপুর কেরামতিয়া জামে মসজিদে সকাল ৯:৩০ মিনিটে, মুন্সিপাড়া ঈদগাহ: সকাল ৮:৩০ মিনিটে, রংপুর মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ: সকাল ৮:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া উপজেলা পর্যায়: তারাগঞ্জ, পীরগঞ্জ, বদরগঞ্জ ও কাউনিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮:৩০ মিনিটে, মিঠাপুকুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৯:০০টায় অনুষ্ঠিত হয়।
জামাতের পর বিশেষ খুতবায় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। জেলা প্রশাসন সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নিরাপদ ও আনন্দময় ঈদ উদ্যাপনের আহ্বান জানিয়েছে।