কক্সবাজার: ঈদের ছুটিতে লাখো পর্যটকের আগমনে মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মানুষের ঢেউ মিশে একাকার হয়ে গেছে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রটি।
রোববার (২২ মার্চ) ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই সৈকতের লাবণী, কলাতলী, সুগন্ধাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভাটা থাকলেও পরদিন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পর্যটকদের উপস্থিতি আরও বেড়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটি মিলিয়ে অনেকেই দীর্ঘ অবকাশ পেয়েছেন। এই সুযোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে কক্সবাজারে ছুটে এসেছেন। সাগরতীরে কোথাও কোথাও পা ফেলার জায়গাও মিলছে না। পর্যটকেরা সমুদ্রস্নান, জেটস্কি, ঘোড়া ও বাইক রাইডসহ বিভিন্ন বিনোদনে সময় কাটাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবারের ঈদে ১০ থেকে ১১ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেন। এতে পর্যটন খাতে প্রায় শতকোটি টাকার ব্যবসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, শহরের প্রায় পাঁচ শতাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কোথাও কক্ষ খালি নেই। আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত অধিকাংশ হোটেল অগ্রিম বুকড।
তবে পর্যটকদের আনন্দের মধ্যেও কিছু ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিক চাহিদার সুযোগ নিয়ে কিছু হোটেল মালিক অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ সময়ে দুই থেকে তিন হাজার টাকার কক্ষ আট থেকে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। খাবার ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।
নোয়াখালী থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, আগাম বুকিং না থাকায় একটি সাধারণ কক্ষ নিতে হয়েছে ৮ হাজার টাকায়। যা স্বাভাবিক সময়ের অনেক বেশি। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আরও অনেকে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক পারভেজ আহমেদ জানান, তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের নজরদারি ও গোয়েন্দা দল ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে।
সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। লাইফগার্ড সদস্যরাও পর্যটকদের নিরাপদে সমুদ্রস্নানে সহায়তা করছেন।
এদিকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর সৈকত আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও উন্মুক্ত হয়েছে। রোববার সৈকত পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহামদ বলেন, সৈকতে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ঝুপড়ি দোকানের কারণে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। তাই সৈকত দখলমুক্ত রাখতে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, পর্যটকেরা কক্সবাজারের অতিথি। তাঁদের নিরাপত্তা ও সেবায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। পাশাপাশি সৈকতে নতুন করে কোনো অবৈধ দোকান বসতে দেওয়া হবে না।
কক্সবাজার চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ‘রমজানজুড়ে কিছুটা নিস্তব্ধ থাকার পর ঈদের ছুটিতে আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে কক্সবাজারের পর্যটন খাত। প্রকৃতির সৌন্দর্য আর উৎসবের আমেজে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর এখন পুরো সমুদ্রসৈকত এলাকা।’