বাগেরহাট: বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সুমন পাইক (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (২২ মার্চ) রাত ৯টার দিকে শহরের শহিদ মিনার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া সুমন পাইক বাগেরহাট পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এবং মামলার এক নম্বর আসামি । তিনি শহরের খারদ্বার এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ জানায়, ঈদের আগের দিন (২০ মার্চ) সন্ধ্যার আগে শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর ঈদের দিন থেকে বাগেরহাট শহরের দুটি তেল পাম্প বন্ধ রয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে ওই ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাম্প বন্ধ সংক্রান্ত বিশেষ বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দেওয়া হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে লেখা আছে, ‘বাগেরহাটের চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশন, খারদ্বার বাগেরহাটে লুটপাট, ভাঙচুর ও মালিক-কর্মচারীদের জীবননাশের উদ্দেশ্যে মারধর করে উক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশন নির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।’
এ ঘটনায় পাম্পের অন্যতম অংশীদার মুর্শিদ কুলি খান বাদী হয়ে রোববার চারজনের নাম, উলেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করে বাগেরহাট সদর মডেল থানার একটি মামলা করেন। গ্রেফতার সুমন পাইক ওই মামলার এক নম্বর আসামি।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তেলের বাড়তি চাপ ও সংকটের কারণে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছিল। ২০ মার্চ সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পাম্পে তেল দেওয়ার সময় আসামিরা ফিলিং স্টেশনে অনধিকার প্রবেশ করে, নিয়ম ভেঙে বেশি টাকার তেল দাবি এবং গালিগালাজ শুরু করে। নিষেধ করা হলে সুমন পাইকের নির্দেশে আসামিরা বাদীকে এলোপাথাড়ি মারধর করে। তখন কর্মচারী তানবির, সাইফুল ইসলাম ও রেজোয়ান উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে, আসামিরা কর্মচারীদের কাছে থাকা তেল বিক্রির পাঁচ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
বাগেরহাট মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম একজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অন্যান্য আসামিদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।