টাঙ্গাইল: ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে টাঙ্গাইল জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
ঈদের দিন থেকে আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল শহরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র ডিসি লেক, এসপি পার্ক, সন্তোষ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ঘারিন্দা সোলপার্ক, রেলস্টেশন, মনতলায় নানা বয়সী নারী-বৃদ্ধ-শিশুদের উপস্থিতি দেখাগেছে। দর্শনার্থীরা প্রিয়জন বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে কেউ নাগরদোলা ও দোলনায় দোল খাচ্ছেন। কেউ দিঘী ও বিলের জলে নৌকায় ভেসে বেড়াচ্ছেন। কেউ ট্রেনে ছুটে বেড়াচ্ছেন। কেউবা আবার ব্যস্ত আড্ডা ও সেলফি তোলায়। সবাই নিজেদের মতো করে নেচে গেয়ে আনন্দময় সময় কাটাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি আনন্দ উপভোগ করছে শিশুরা।
টাঙ্গাইল জেলার অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র- মধুপুর বনাঞ্চল, মধুপুর বিএডিসি বীজ উৎপাদন খামার, ধনবাড়ী নবাব বাড়ি, গোপালপুরের ২০১ গম্বুজ মসজিদ, হেমনগর জমিদার বাড়ি, যমুনা নদী র্তীরবর্তী এলাকা, যমুনা সেতু এলাকা, যমুনা রিসোর্ট, নৌপথে গোবিন্দাসী থেকে গাবসারা চরাঞ্চল, কালিহাতীর চারান বিল, এলেঙ্গা রিসোর্ট, করটিয়া জমিদার বাড়ি, ঘাটাইলের ধলাপাড়া চৌধুরীবাড়ি, ঘাটাইল-ঝড়কা ও ধলাপাড়া পাহাড়ি সড়ক, ঘাটাইল শাপলা শিশু পার্ক ও সাগরদীঘি অনিক নগর পার্ক, সখীপুর বনাঞ্চল, বাসাইলের বাসুলিয়া বিল, নকুল বিল, মির্জাপুর মহেড়া জমিদার বাড়ি, দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি, ধনবাড়ী জমিদার বাড়ি, গোপালপুর হেমনগর জমিদার বাড়ি, আতিয়া জামে মসজিদ, নাগরপুর জমিদার বাড়ি, উপেন্দ্র সরোবর, ধলেশ্বরী সেতু, পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, নাগরপুর ধুবুরিয়া স্বপ্ন বিলাস চিড়িয়াখানা, দাপনাজোড় ওয়াটার গার্ডেন ইত্যাদি বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। বিনোদন পিপাসু মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ ও সময় কাটিয়েছেন ঘুরে বেরিয়ে- এদের মধ্যে যুবকরাই বেশি। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো ঘুরছেন। ফাঁকা সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।
ঈদে সপরিবারে বেড়াতে আাসা শামীম আল মামুন জানান, সুন্দর আবহাওয়ায় ছেলে-মেয়েদের আবদার রক্ষা করতে একটু বের হতে হয়েছেন। ঈদের ছুটিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আনন্দ করছেন। সব কিছু বন্ধ থাকায় যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে না।
টাঙ্গাইলে বেড়াতে আসা দর্শনার্থী সুমি আক্তার জানান, ঈদে দূরে কোথাও যাওয়া হচ্ছে না। তাই রিকশায় চড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আড্ডা রত অবস্থায় কিছু যুবক জানায়, প্রতিবার তারা টাঙ্গাইলের প্রায় সব বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরে বেড়াতেন। কিন্তু এবার তেল স্বল্পতার জন্য কয়েকটা জায়গায় গিয়েছিলেন। সাধ্যমতো মজা করেছেন- এখন বসে বসে আড্ডা দিচ্ছেন।
যমুনা সেতু পূর্ব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষ্যে যমুনা নদীর বামতীরে বহু দর্শনার্থী বেড়াতে এসেছেন। বন্ধু-বান্ধবদের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে এসেছেন অনেকেই। যমুনাতীরে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। টাঙ্গাইল সদর থেকে আসা যুবক মানিক মিয়া জানান, ঈদ উপলক্ষে বাবা, ভাই, বন্ধুর সঙ্গে যমুনা নদীর তীরে গড়িলাবাড়ি এসেছেন। যমুনার নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
যমুনা সেতু পূর্ব এলাকার বেলটিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানায়, ঈদ উপলক্ষে শ’ শ’ মানুষ সেতু এলাকায় বেড়াতে আসছে। এতে তারাও অনেক মজা করছি।