কুমিল্লা: কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন করে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। তদন্তে দুর্ঘটনার পেছনে দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর এলাকা থেকে কাওসার আলম (২০) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তিনি দিনাজপুর জেলার আবদুস সালামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, ঈদের দিন দায়িত্বে থাকা গেইটম্যান হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসান ডিউটিতে অনুপস্থিত থেকে মাত্র এক হাজার টাকার বিনিময়ে বদলি হিসেবে কাওসার আলম ও স্থায়ী গেইটম্যান নাজমুলকে দায়িত্ব দেন। অথচ সেদিন তাদের কারোরই ডিউটি ছিল না।
তদন্তে জানা যায়, দুর্ঘটনার রাতে তারা পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ের গেইটম্যান কক্ষে অবস্থান করলেও ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা মেইল ট্রেন আসার আগে গেইট বন্ধ করা হয়নি। কেন গেইট বন্ধ করা হয়নি, সে বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে।
লাকসাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম উদ্দিন আরও জানান, গেইটম্যানরা পূর্ববর্তী স্টেশন থেকে কোনো সিগন্যাল পেয়েছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি গেইটম্যান কক্ষে মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তাধীন রয়েছে। এদিকে, মামলার আরেক আসামি মেহেদী হাসান এখনও পলাতক।
এর আগে, একই মামলার প্রধান আসামি হেলাল উদ্দিনকে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লার শশীদল এলাকা থেকে র্যাব ১১, সিপিসি -২ গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২৩ মার্চ) আহত বাসযাত্রী শেফালী আক্তার লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি নিহত সোহেল রানার খালা। মামলাটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় (দায়িত্বে অবহেলাজনিত মৃত্যু) করা হয়েছে।
গত ২১ মার্চ রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং অন্তত ১৫ আহত হন। দুর্ঘটনার পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।