Friday 27 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মৃত্যুর আগেই কুলখানি, ৭ হাজার মানুষের ভোজ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ মার্চ ২০২৬ ২৩:০৮

কক্সবাজার: কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় ঘটেছে এক ব্যতিক্রমি ঘটনা। মৃত্যুর পর নয়, বরং জীবিত অবস্থাতেই নিজের কুলখানির আয়োজন করেছেন এক বৃদ্ধ। তার ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে এসে বড় পরিসরে সেই আয়োজন করেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে বিস্ময়, হাস্যরস ও নানা আলোচনা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের ফুড়ার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল্লাহর বাড়ির প্রাঙ্গণে এই আয়োজন করা হয়। এতে আমন্ত্রিত অতিথি ও এলাকাবাসীসহ প্রায় ৭ হাজার মানুষের মাঝে খাবার পরিবেশন করা হয়। একই সঙ্গে তার সুস্বাস্থ্য কামনায় বিভিন্ন মাদরাসার হাফেজদের নিয়ে বিশেষ দোয়ার আয়োজনও করা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০০ বছর বয়সী জহিরুল্লাহ তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ের জনক। বড় পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করছেন তিনি। বয়সের ভার থাকলেও এখনো বেশ সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেন। নিয়মিত প্রতিবেশীদের সঙ্গে আড্ডাও দেন। তবে কয়েক বছর ধরে তার শ্রবণশক্তি কিছুটা কমে গেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, নিজের মৃত্যুর পর বড় আয়োজন করে কুলখানি দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই। এই চিন্তা থেকেই জীবদ্দশায় এমন আয়োজনের ইচ্ছা পোষণ করেন জহিরুল্লাহ। সেই ইচ্ছার কথা তিনি জানান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম সিকদারকে।

জহিরুল্লাহ বলেন, ‘চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো। তাই তাকে বলেছিলাম, আমি বেঁচে থাকতেই যেন কুলখানির আয়োজন করা হয়। এতে আমি নিজ চোখে দেখতে পারব সবাইকে খাওয়ানো হচ্ছে।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, সাধারণত কেউ মারা যাওয়ার চার দিন বা চল্লিশ দিন পর দোয়া মাহফিল ও কুলখানির আয়োজন করা হয়। কিন্তু জীবিত অবস্থায় এমন আয়োজন এই প্রথম দেখলেন তারা। অনেকেই এটিকে ‘অলৌকিক’ ও ব্যতিক্রমি ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আয়োজক চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম সিকদার বলেন, ‘জহিরুল্লাহ জীবনে কখনো কারও কাছ থেকে সহজে সহযোগিতা নিতেন না। কিছুদিন আগে তিনি নিজেই এসে মৃত্যুর আগেই কুলখানির আয়োজন করে মানুষকে খাওয়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার সেই অছিয়ত রক্ষার্থেই এই আয়োজন করা হয়েছে।’

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর