গাইবান্ধা: ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলা ট্যাংগর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবার বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে। একসঙ্গে পাঁচ জনের মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় চলছে শোকের মাতম।
নিহতরা হলেন— গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার পূরব নিজপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তার ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) এবং আব্দুর রশিদের মেয়ে রিফা (২৩)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তারা। অধিকাংশই পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। একই বাসে করে গাইবান্ধা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।
বাসের যাত্রীদের বরাতে জানা যায়, পথিমধ্যে হঠাৎ বাসটির তেল শেষ হয়ে যায়। পরে চালক ও হেলপার বাসটি মহাসড়কের পাশে রেললাইনের কাছে দাঁড় করিয়ে তেল আনতে যান। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসটি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল।
এ সময় যাত্রীরা কেউ বাস থেকে নেমে আশপাশে হাঁটাহাঁটি করছিলেন, কেউ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিচ্ছিলেন। কয়েকজন যাত্রী রেললাইনের ওপর বসে মোবাইলে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময় দ্রুতগতির একটি ট্রেন এসে তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের নার্গিসের স্বামী হামিদুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী সন্তান ও বিয়াইন তিনজন মিলে ঢাকায় যাচ্ছিল। এরপর রাতে তাদের মৃত্যুর সংবাদ পাই। এসব বলতে বলতে বারবার সে মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
এদিকে দূর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, দুর্ঘটনার খবর শোনার পর পরই আমি নিহতদের বাড়িতে যাই । তারা সকলেই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।