লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে গরুর মাংস ওজনে কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় নুরুল ইসলাম নামে এক ক্রেতাকে পিটিয়ে আহত করেছে কসাই ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হক বাদী হয়ে কসাই বাহারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে কমলনগর থানায় এই মামলা দায়ের করেন।
মামলায় কসাই মো. বাহার, তার ছেলে মো. সাহেদ ও কর্মচারী তোফায়েল আহমদকে আসামি করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার তোরাবগঞ্জ বাজারে মাংস কিনতে গিয়ে হামলার শিকার হন ওই যুবক।
আহত নুরুল ইসলাম উপজেলার চর কালকিনি ইউনিয়নের চরসামসুদ্দিন গ্রামের আবদুল হকের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ছোট ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে কসাই বাহারের দোকানে মাংস কিনতে গিয়েছিলেন নুরুল ইসলাম। মাংস কাটার সময় অতিরিক্ত হাড় ও চর্বি দেওয়া এবং ওজনে কম দেওয়ার বিষয়টি তার নজরে এলে তিনি প্রতিবাদ করেন।
এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে বাহার, তার ছেলে সাহেদ ও দোকানের কর্মচারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে নুরুলের ওপর হামলা চালায়। এতে নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হক জানান, তার ছেলেকে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দিলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত কসাই বাহার সাংবাদিকদের কাছে মারধরের ঘটনাটিকে ‘সামান্য হাতাহাতি’ বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, মাংস বিক্রির সময় কিছু চর্বি দিতেই হয়, যা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে তার ছেলে রাগের মাথায় আঘাত করে বসেছে।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, ভুক্তভোগীর বাবার দেওয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।