Monday 30 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ মার্চ ২০২৬ ১৩:২১

হাসপাতালে ভর্তি হাম আক্রান্ত শিশুরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন মাসে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৬ শতাধিক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। যা স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) জেলা হাসপাতালে রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হামসহ অন্যান্য শিশুরোগ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসকসহ স্টাফরা হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসা সেবা দিতে। তবে রোগীরা জানিয়েছেন, তারা এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭২জন ভর্তি আছেন। তার মধ্যে ৩৯ জন ছেলে এবং ৩৩ জন মেয়ে শিশু। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং একজনকে রাজশাহীর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও হাসপাতালটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়ে ১১০ জন শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে এবং ১৪৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাম বাদে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭০ জন শিশু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এদিকে রোগীর চাপ এত বেশি যে, অনেক শিশুকে শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝেতেও থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আইসোলেশন ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি থাকায় আক্রান্ত শিশুদের পুরোপুরি আলাদা রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য রোগ নিয়ে আসা শিশুরাও হাসপাতালে থাকা অবস্থায় সংক্রমিত হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) নিশ্চিত করা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের একমাত্র পথ বলেও জানান তারা।

জেলা হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক বিভাগের বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা ৯৫ ভাগ শিশু রোগীকে পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে যাদের শ্বাসকষ্ট আছে, অক্সিজেন ও আইসোলেশনের দরকার, তাদেরকে রাজশাহীতে পাঠানো হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টিকরামপুর এলাকার মলি খাতুন বলেন, আমার মেয়ে কিছুদিন আগে হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে। গত পরশুদিন থেকে অনেক জ্বর। গতকাল সকালে খিঁচুনিসহ জ্বর ছিল। পরে হাসপাতালে এসে মেয়েকে নিয়ে ভর্তি আছি। ইনজেকশন দিয়েছে, ওষুধ চলছে। আজ রাত থেকে আল্লাহর রহমতে জ্বর নেই। বর্তমানে বাচ্চা ভালো আছে।

জুবায়ের নামে আরেকজন বলেন, আমি গতকাল রাত সাড়ে ১০টার সময়ে আমার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে এসেছিলাম। সেই সময়ে আমার ছেলের অনেক জ্বর ছিল। আলহামদুলিল্লাহ এখন আমার ছেলে অনেক সুস্থতা অনুভব করছে। এখানকার চিকিৎসক ও স্টাফরা অনেক ভালো। তারা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছে। তবে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি।

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর