পিরোজপুর: পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী খান (গেজেট নং-৩৩১)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২৯ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের সামনে ঔষধ কিনতে গেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী খান অভিযোগ করেন, তার সৎ ভাইয়ের ছেলে মো. মহাসিন খান পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী মরিয়ম আক্তার, কন্যা সুমনা আক্তার সুমি এবং আরও এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।
তিনি আরও বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক বছর আগে একই পক্ষ তাকে হয়রানি করতে একটি মিথ্যা মামলাও দায়ের করেছিল বলে তিনি দাবি করেন।
হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি রণাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাতাপ্রাপ্ত। স্বাধীন দেশে জীবনের শেষ বয়সে এভাবে রক্তাক্ত হওয়ার বিচার আমি রাষ্ট্রের কাছে চাই।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে জসিমউদ্দীন খান পিরোজপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. মাহমুদ হাসান বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর অভিযুক্তদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হামলার খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতিনিধিরা হাসপাতালে গিয়ে আহত বীর মুক্তিযোদ্ধার খোঁজখবর নেন। তারা জানান, তিনি সুস্থ হলে এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে।