কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা নারী-পুরুষসহ ১৩ জনকে উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ লম্বরী এলাকায় একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে দক্ষিণ লম্বরী এলাকার একটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্র কয়েকজন নারী ও পুরুষকে জোরপূর্বক আটকে রেখেছে। তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের পাশাপাশি মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনাও ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৫ এর সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্পের একটি দল মঙ্গলবার রাত দেড়টায় ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে ১৩ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি পুরুষ, ৪ জন রোহিঙ্গা পুরুষ এবং ৩ জন রোহিঙ্গা নারী রয়েছেন। তাদের প্রাথমিকভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, সাইফুল (৩৮), মালবিক কামাল (৪৬), ফাইসাল (২৭), জাফর (৩৬) ও সাইফুল ইসলাম (২৪)। তাদের সবার বাড়ি টেকনাফ এলাকায়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হচ্ছে।
র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিয়ামুল হালিম খান বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজার-টেকনাফ উপকূল দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও দালালচক্র নানা কৌশলে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করছে।